Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:56 am

নেপালে প্রধান শিক্ষকের বিচক্ষণতায় বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক দূরদর্শিতা ও সময়োচিত পদক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী।

রোববার (৩০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে তথ্য জানায়।   

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির নুয়াকোট জেলার 'ত্রিভুবন ত্রিশূলি সেকেন্ডারি স্কুল'-এ এই ঘটনা ঘটে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০-এর বেশি। ঘটনার দিন মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চারটি ভিন্ন নম্বর থেকে তার কাছে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা আসে। উজান এলাকা তিলকান্দা ও বেত্রাবতী নদীর তীরবর্তী বসতিগুলো পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত পুরো স্কুল ভবন খালি করার নির্দেশ দেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান শিক্ষক বলেন, পরিস্থিতি জানার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আর এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না। বন্যা যদি শেষ পর্যন্ত নাও আসত, বড়জোর শিক্ষার্থীদের একদিনের পড়াশোনা নষ্ট হতো—কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যেত না।

শিক্ষার্থীদের দ্রুত সারিবদ্ধ করে পাহাড়ের উঁচু জায়গার দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা দেখতে পান, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) দূরে থাকা স্কুলের ছাত্রাবাস ভবনটি চোখের নিমিষে পানির তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি বলেন, আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিতে আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি করতাম, তবে শিক্ষার্থীসহ আমাদের কারও পক্ষেই আজ বেঁচে থেকে এ কথা বলা সম্ভব হতো না।

প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে রক্ষা পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ১৬ বছর বয়সী ইউনিশা। বিবিসিকে সে বলে, আমি এবং আমার সহপাঠীরা মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে ফিরেছি। ইউনিশা জানায়, সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই স্কুলের পেছনের একটি সরু ও কর্দমাক্ত পাহাড়ি পথ দিয়ে তারা দৌড়ে উঁচুতে উঠতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে পুরো বাজারটি পানির তোড়ে ভেসে যেতে দেখলাম, যোগ করে সে।

বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউনিশার পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে। ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা বলেন, আমি আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। মেয়ে ও তার বাবার ফোনে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাচ্ছিলাম না। দীর্ঘ সময় পর ফোনে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হলেও তিন দিন পর অক্ষত অবস্থায় মেয়ে ঘরে ফিরলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সাবিনা শ্রেষ্ঠা। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ঈশ্বর আমার মেয়েকে রক্ষা করেছেন।

—জা.অর্থনীতি/আরএস