জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তখন কী নিজের জায়গা করে নিচ্ছে চীন? কায়রোর রাজপথে চীনের পতাকা, আর সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা! যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসরের সঙ্গে কেন দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বেইজিং? এর নেপথ্যে শুধুই কী অর্থনীতি নাকি এর পেছনে আছে বড় কৌশলগত হিসাব?
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে অস্থিতিশীলতার মধ্যেই মিশর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কায়রোর আল-ইত্তিহাদিয়া প্রাসাদে তাকে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। গত এক দশকের মধ্যে এটি শি জিনপিংয়ের প্রথম মিসর সফর।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার মিসর। ওয়াশিংটনের কাছ থেকে দেশটি বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পায়। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সাথেও অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক দ্রুত বাড়িয়েছে কায়রো।
২০১৪ সালে সিসির চীন সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি হয়। এরপর অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সম্প্রতি যৌথ সামরিক মহড়া ‘ইগলস অব সিভিলাইজেশন’ এ চীনের জে-১৬ যুদ্ধবিমান ও ফ্রান্সের তৈরি রাফালে যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা সামনে আনে।
চীনের জন্য মিশরের গুরুত্ব শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক নয়। সুয়েজ খাল, ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে কায়রো বেইজিংয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।
মিসরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন থেকে দেশটির আমদানি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি।
এদিকে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মিশরের বন্দর, গ্রিন হাইড্রোজেন, শিল্প, গাড়ির টায়ার, লোহার পাইপ ও স্যাটেলাইট উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। কায়রোর নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর ব্যবসায়িক এলাকাও নির্মাণ করছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে নিজের কৌশলগত বিকল্প তৈরি করতে চাইছে মিশর। আর মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাওয়া চীনের কাছে কায়রো হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি