ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া এক প্রার্থীকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও নানা অ্যাকাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ওই প্রার্থী স্নাতক ১ম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী বর্ষগুলোতে একাধিকবার মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। বিএনপিপন্থী নতুন প্রশাসনের অধীনে হওয়া এই শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী ফিরোজা নাজনীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’-এর নেতা ও আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ, ড. জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীর নিয়োগ নিশ্চিত করতে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ (এক্সপার্ট) সদস্যের সঙ্গে পরীক্ষার আগের দিন গোপনে সাক্ষাৎ করেছেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজা নাজনীন ১ম বর্ষে দুটি কোর্সে ইমপ্রুভমেন্ট এবং একটি কোর্সে রিটেক পরীক্ষা দিয়ে সিজিপিএ ৩.৩৮ পান। ২য় বর্ষেও একটি কোর্সে ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে তার সিজিপিএ হয় ৩.৪২। ৩য় বর্ষে আরেকটি কোর্সে ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে সিজিপিএ ৩.৬৪ এবং ৪র্থ বর্ষে কোনো রিটেক বা ইমপ্রুভমেন্ট ছাড়াই সিজিপিএ ৩.৮৪ পান। সব মিলিয়ে রিটেক ও ইমপ্রুভমেন্টের ফল যুক্ত করে তার চূড়ান্ত সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৫৯। তবে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে থাকাকালে তার স্বামী ড. জাহিদুল ইসলাম বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হন। ফলে ১ম ও ২য় বর্ষের চেয়ে ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে তার ফলাফল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। ইমপ্রুভ ও রিটেকের ফল যুক্ত না করলে তার প্রকৃত সিজিপিএ হতো ৩.৪২।
এদিকে, নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন (২৮ জুলাই) কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারে ড. জাহিদুল ইসলাম এবং আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ নিয়োগ বোর্ডের এক্সপার্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহান আহমেদের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন বিশেষজ্ঞ সদস্যের সঙ্গে কোনো প্রার্থীর স্বামীর গোপন সাক্ষাৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তবে ড. জাহিদুল ইসলাম এই সাক্ষাৎকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছেন। তিনি ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "পরীক্ষা কমিটিতে একাধিক সদস্য থাকেন, এককভাবে ফলাফল নির্ধারণের সুযোগ নেই। ফিরোজা নাজনীন ছাত্রী থাকাকালীন আমি পরীক্ষা কমিটিতে থাকলেও তখন আমাদের বিয়ে হয়নি। ২০১৪ সালে আমাদের বিয়ে হয়।" তবে বিয়ের কাবিননামা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
যোগাযোগ করা হলে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী ফারহান আহমেদ বলেন, "ড. জাহিদের সঙ্গে আমার ২০১৯ সাল থেকে পরিচয় এবং আমরা একসঙ্গে গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিয়েছি। সেদিন তার সঙ্গে দেখা হলেও নিয়োগ-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কথা হয়নি। যারা এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হওয়া উচিত।"
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "যে নিয়োগটির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটি আমি একান্তভাবে ও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখব।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি