জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: আজকের বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দিনের শুরুটা হয় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফিতে। তবে বিশ্বজয়ী এই পানীয়টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর আবিষ্কার ও প্রসারের নেপথ্যে রয়েছে মুসলিম সভ্যতার এক অনন্য অবদান।
ইতিহাসের পাতায় উল্লেখ আছে, প্রায় ১২০০ বছরেরও বেশি আগে ইথিওপিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে খালিদ নামের এক আরব ছাগল-রাখাল প্রথম এই কফি বীজের অলৌকিক গুণাগুণ আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর ছাগলগুলো এক ধরনের বিশেষ লাল রঙের বেরি বা ফল খাওয়ার পর অস্বাভাবিক রকদম চঞ্চল হয়ে উঠছে এবং রাতে একদম ঘুমাচ্ছে না। কৌতুহলী খালিদ বেরিগুলো সংগ্রহ করে ফুটিয়ে পানীয় তৈরি করেন। প্রথমদিকে মানুষ এই ফল সরাসরি চিবিয়ে খেলেও, পরবর্তীতে পানি দিয়ে ফুটিয়ে পানীয় হিসেবে গ্রহণের নিয়ম তৈরি হয়। আরবিতে এর নাম দেওয়া হয়েছিল আল-কাহওয়া (al-qahwa), যা থেকে পরবর্তীতে ইংরেজি কফি (Coffee) শব্দের উৎপত্তি।
কফিকে জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ইয়েমেনের সুফি সাধকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ১৫ শতকে তাঁরা রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থেকে ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির করার জন্য মনোযোগ ধরে রাখতে নিয়মিত কফি পান করতেন। সুফিদের হাত ধরে কফি দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি পায়।
বণিক সম্প্রদায়, পর্যটক ও হজযাত্রীদের মাধ্যমে কফি দ্রুত মক্কা ও মদিনায় পৌঁছায়। ১৬ শতকে কায়রো হয়ে তা তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গড়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম সারির কফি হাউসগুলো, যা হয়ে ওঠে আড্ডা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রস্থল।
পরবর্তীতে ১৬৫০ সালে পাসকুয়া রোসি (Pasqua Rosée) নামের এক অটোমান ব্যবসায়ীর মাধ্যমে লন্ডনে প্রথম কফি হাউস চালু হয়, যা ইউরোপে এক বিশাল সামাজিক বিপ্লব এনে দেয়।
প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত যে কফি সংস্কৃতি আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর মূলত গড়ে দিয়েছিল মুসলিম বিজ্ঞানীরাই।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি