আমানুল্লাহ আসিফ, শেরপুর: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়ি পথ ও বন্য হাতির বিচরণে শেরপুরের পাহাড়ি জনপদ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে শীত ও ঈদের ছুটিতে বাড়ে পর্যটকের ভিড়।
‘তুলশীমালার সুগন্ধে, পর্যটনের আনন্দে’ স্লোগানধারী শেরপুরে রয়েছে গজনী অবকাশ, মধুটিলা ইকোপার্ক, পানিহাটা-তারানী পাহাড়, বারোমারি ও পানিহাটা খ্রিষ্টান মিশন, দাওধারা গারো পাহাড়, নাকুগাঁও স্থলবন্দর, হাড়িয়াকোনা পাহাড়সহ নানা দর্শনীয় স্থান।
গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ বন্য হাতি। স্থানীয়দের হিসাবে, পুরো গারো পাহাড় এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় বন্যহাতি রয়েছে। পাশাপাশি গারো, কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পোশাক, খাবার ও জীবনযাপন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। পাহাড়ি এলাকার আনারস, কলা, কমলা, লটকন, আদা ও হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও জনপ্রিয়।
নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী প্রায় ৩৮৩ একর জায়গাজুড়ে ১৯৯৯ সালে গড়ে ওঠে মধুটিলা ইকোপার্ক। এখানে কৃত্রিম লেক, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও শিশুদের খেলার জায়গা রয়েছে। তবে সংস্কারের অভাব, অকেজো বিনোদন রাইড, খাবার ও রাতযাপনের সীমিত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং আরও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঝিনাইগাতীর সীমান্তঘেঁষা প্রায় ৯০ একরের গজনী অবকাশ ১৯৯৩ সালে গড়ে ওঠে। এখানে লেক, কৃত্রিম জলপ্রপাত, ঝুলন্ত সেতু, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, শিশুপার্ক ও পাহাড়ি বন রয়েছে। পর্যটকদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। অন্যদিকে শ্রীবরদীর সীমান্তঘেঁষা হাড়িয়াকোনা পাহাড়ে নেই পর্যাপ্ত পর্যটনসুবিধা কিংবা ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবুও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী সেখানে ছুটে আসেন। প্রকৃতির ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এলাকাটি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গারো পাহাড়ঘেরা শেরপুরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অনেক প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে। গজনী অবকাশ আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ না থাকার বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।