আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের হামলা কী শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতায় নিখুঁত হচ্ছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে চীনের স্যাটেলাইট তথ্য ও গোয়েন্দা সহায়তা? মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ঘিরে উঠেছে এমনই নানা প্রশ্ন। তবে, চীনা সহায়তার পরিধি নিয়ে এখনো রয়েছে মতভেদ।
চীনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর দেওয়া স্যাটেলাইট ছবি ও ভূ-স্থানিক তথ্য (জিওস্পেসিয়াল ডাটা) ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে! এমন তথ্য পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে! চারটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব তথ্যের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর নজরদারি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে ইরান!
সূত্রগুলোর দাবি, গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলাতেও চীনা স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল! ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহতের খবর পাওয়া যায়! মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের উচ্চমাত্রার নির্ভুল হামলার সক্ষমতা এককভাবে ইরানের ছিল না। তবে, চীনের সহায়তার পরিধি কতটা, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা! চীন সরকার সরাসরি এ সহায়তার নির্দেশ দিচ্ছে, নাকি নীরব সম্মতির মাধ্যমে সুযোগ করে দিচ্ছে, তাও এখনো অস্পষ্ট।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ার পেছনে চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দীর্ঘ সংঘাতে অর্জিত যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা!
এদিকে, চীন ও ইরানের দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসও কোনো জবাব দেয়নি। তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াখুন বলেছেন, সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বেইজিং।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা স্যাটেলাইট তথ্যের পাশাপাশি ইরান সামরিক প্রযুক্তি ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করছে। ফলে, দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেও দেশটি সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারছে বলে তাদের দাবি।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি