আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিব্বতি সংস্কৃতি কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, নাকি বদলে দেওয়া হচ্ছে তার পরিচিত রূপ? তিব্বতে যাওয়া কঠিন হওয়ায় অনেক চীনা পর্যটক এখন ছুটছেন ইউনানের শাংরি-লায়। সেখানে তিব্বতি পোশাক, মঠ, প্রার্থনাচক্র ও বৌদ্ধ স্থাপনার উপস্থিতি থাকলেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের অনেক উপাদানই আড়ালে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর সাংস্কৃতিক পরিচয়, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বদলে যাচ্ছে শাংরি-লা!
তিব্বতের আবহ অনুভব করতে এখন অনেক চীনা পর্যটক সরাসরি তিব্বতে না গিয়ে ছুটছেন পাশের ইউনান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটননগরী শাংরি-লায়। সেখানে তিব্বতি পোশাক, প্রার্থনার পতাকা, মঠ ও মন্দির থাকলেও তিব্বতি সংস্কৃতির এমন একটি সংস্করণ তুলে ধরা হচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় উপাদান ও দালাই লামার প্রভাব অনেকটাই অনুপস্থিত।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাংরি-লার পুরনো বাজার এলাকায় তিব্বতি পোশাক পরা হান-চীনা পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। শতাব্দীপ্রাচীন মঠ ও মন্দিরগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলার আকর্ষণীয় পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি মন্দিরের প্রায় ৬৯ ফুট উঁচু প্রার্থনাচক্রও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ বছর আগে প্রায় ৩৫০ ফুট উঁচু একটি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ করলেও সেটিকে কার্যত অ-ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা তিব্বতি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সচেতন। দালাই লামা নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছানোয় তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ রূপ নিয়েও গুরুত্ব বাড়ছে। ১৯৫৯ সালে ভারতে নির্বাসনে যাওয়ার পর থেকে দালাই লামা চীনের তিব্বতনীতির সমালোচনা করে আসছেন এবং তিব্বতের স্বতন্ত্র পরিচয় দুর্বল করার অভিযোগ করে আসছেন।
অর্থনৈতিক কারণে স্থানীয় তিব্বতিরাও পর্যটননির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ২০০১ সালে শহরটির নাম গ্যালথাং বা ঝোংদিয়ান থেকে শাংরি-লা হওয়ার পর পর্যটনের দ্রুত বিস্তার ঘটে। বর্তমানে দুই লাখেরও কম মানুষের এই শহরে অন্তত ৩০০টি পোশাক ও ছবি তোলার স্টুডিও রয়েছে।
জাতিগত তিব্বতি মেকআপ শিল্পী চিমি লামোর ভাষায়, পর্যটকদের কাছে পোশাকটি ছবিতে দেখতে ভালো লাগাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সবই নকল হলেও স্থানীয়দের কিছু করার নেই। তবে, এই পরিবর্তনের সঙ্গে তিব্বতি স্বাতন্ত্র্যও ম্লান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তরুণদের মঠে অংশগ্রহণ কমছে, অনেকে তিব্বতি ভাষা পড়তে বা লিখতে সমস্যায় পড়ছেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে সরকারি বিধিনিষেধ এবং বিদেশে বৌদ্ধধর্ম নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ কমে যাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি