প্রযুক্তি ডেস্ক: স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ উৎপাদন ১০গুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ডের স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিওটেক ইনস্ট্রুমেন্টস’। ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কারখানা চালুর মাধ্যমে বছরে ৪০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত উপগ্রহ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণার পাশাপাশি মহাকাশে উপগ্রহ উৎক্ষেপণে মার্কিন রকেটের ওপর ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ক্রিওটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গ্রজেগোরজ ব্রোনা।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিওটেকের প্রধান নির্বাহী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন হাজার হাজার স্যাটেলাইট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করলেও সেগুলো কক্ষপথে পাঠানোর নিজস্ব রকেটের ঘাটতি রয়েছে। ফলে আগামী বহু বছর মহাকাশযাত্রায় ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করে থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা এখন ইউরোপের ওপর কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ব্রোনা জানান, বর্তমানে তাদের কারখানায় বছরে গড়ে ১০টি স্যাটেলাইট তৈরি হলেও ২০২৯ সালে নতুন কারখানা চালু হলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নতুন বড় উপগ্রহ প্রকল্পে অংশ নিতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানিতে নিজস্ব শাখা খুলতে যাচ্ছে ক্রিওটেক। এছাড়া ২০৩২ সালের মধ্যে ৫০০ কেজি ওজনের ভারী স্যাটেলাইট নির্মাণের প্রযুক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আমেরিকান অস্ত্র রপ্তানি আইনের ঝামেলা এড়াতে ক্রিওটেক তাদের নির্মিত স্যাটেলাইটে কোনো মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে না। তবে নিজস্ব উৎক্ষেপণ যান না থাকায় তাদের তৈরি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-এর সাহায্য নিতে হচ্ছে। পোল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংক্রান্ত ‘মাইক্রোগ্লোব’ প্রকল্পের চারটি স্যাটেলাইটের সবকটিই স্পেসএক্সের মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩২৪টি সফল রকেট উৎক্ষেপণের মধ্যে ইউরোপের অবদান ছিল মাত্র ৮টি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একাই ১৯৩টি উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে নিজস্ব রকেট তৈরির উদ্যোগ নিলেও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তৈরি হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।