অনলাইন ডেস্ক: পিএইচডি শুধু একটি ডিগ্রি নয়, উচ্চশিক্ষা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ, অর্থায়ন, তত্ত্বাবধানসহ নানা সীমাবদ্ধতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যেই যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি চালুর সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ইউজিসি। প্রশ্ন উঠছে নতুন দরজা খোলার আগে পুরোনো ব্যবস্থার সংকটগুলো কতটা সমাধান হয়েছে?
দেশে পিএইচডি করার সুযোগ আছে বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি ভর্তিতেও গবেষণা প্রকাশনা, একাডেমিক যোগ্যতা এবং তত্ত্বাবধায়কের মতো একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু পিএইচডির আসল চ্যালেঞ্জ শুধু ভর্তি নয় গবেষণার জন্য প্রয়োজন অর্থ, আধুনিক ল্যাব, তথ্য-উপাত্ত, দক্ষ তত্ত্বাবধান এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিবেশ।
গবেষণার অর্থায়ন নিয়ে অবশ্য চলতি বছর ইউজিসি বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
এই বাস্তবতার মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন উদ্যোগ। ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, মানসম্মত গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা থাকা যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুব শিগগির পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ইউজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই সুযোগ পাবে না। গবেষণার মান, অবকাঠামো, একাডেমিক সক্ষমতা, স্বচ্ছতা এবং একাডেমিক সততার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হবে।
এ অবস্থায় চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউজিসি। গত ১৭ আগস্ট ঢাকার শেরাটনে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এ এ বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার সুযোগ দিতে হবে এবং দেশে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি না করলে গবেষণায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, শিগগিরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
বাংলাদেশেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালুর ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠছে মান নিয়ন্ত্রণ। কারণ পিএইচডি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। একজন গবেষককে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, যোগ্য তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করা, গবেষণার জন্য অর্থায়ন ও অবকাঠামো রাখা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জার্নালে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং থিসিস মূল্যায়নে স্বাধীনতা বজায় রাখা- সবকিছু মিলিয়েই একটি কার্যকর ডক্টরাল প্রোগ্রাম তৈরি হয়।
ইউজিসি জানায়, দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং গবেষণার মান ও অ্যাকাডেমিক সততা নিশ্চিত করেই এ সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান , সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ পাবে না।
পাবলিক হোক কিংবা বেসরকারি পিএইচডি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একটি বিষয়েই; কতজনকে ডিগ্রি দেওয়া হলো, তার চেয়ে কতটা মানসম্মত গবেষণা হলো সেই হিসাবেই।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি