আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের একটি শিবিরে তুষারধসের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নেপালি পর্বতারোহীর সহকারীর মৃত্য হয়েছে। এরই মধ্যে তুষারচাপা পড়া ক্যাম্প থেকে বৃহস্পতিবার আরও আটটি লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেইন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গুরুং রয়টার্সকে জানান, গত রবিবার ভোরে চীন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ৭,১২৬ মিটার (২৩,৩৩৫ ফুট) উচ্চতার হিমলুং শিখরের বেস ক্যাম্পে এই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে পরবর্তী অভিযানের জন্য তাবু টানানো এবং রশি বাঁধার কাজ করছিলেন নেপালি কর্মীরা।
তুল সিং গুরুং বলেন, আজ যে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ থাকা অপর একজন কর্মীকে জীবিত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এবং উদ্ধার অভিযান প্রায় গুটিয়ে আনা হচ্ছে। তুষারধসের সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা ওই স্থানে পৌঁছাননি।
উল্লেখ্য, অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে চার মিটারেরও (১৪ ফুট) বেশি গভীর বরফ খুঁড়ে তল্লাশি চালায়, যার নিচে বেস ক্যাম্পের তাবুগুলো চাপা পড়েছিল। এর আগে রবিবার দুই পর্বতারোহী গাইড, সোমবার দুই কিচেন স্টাফ এবং মঙ্গলবার আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, নেপালের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পর্বতারোহণ দুর্যোগ ঘটেছিল ২০১৪ সালে, সে সময় এভারেস্টে তুষারধসে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালে এভারেস্টে ভূমিকম্পের কারণে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
এদিকে গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় ১,৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর এখনও বহু মরদেহের সন্ধান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে আটটিরই অবস্থান নেপালে। দেশটির অর্থনীতি পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং ট্যুরিজমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আর ৭ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয় করতে ইচ্ছুক পর্বতারোহীদের জন্য হিমলুং একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্য।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি