জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
স্বপ্নের বাড়ি তো কেনা হলো, কিন্তু দেখতে গিয়ে দেখলেন হাতের সব সঞ্চয় শেষ! পকেট একদম শূন্য, এখন কীভাবে চলবে সংসার আর কীভাবে সামলাবেন মাসিক খরচ?
নতুন ঘর সাজানো বা ইন্টেরিয়রের পেছনে আবেগ দেখিয়ে নতুন করে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ বা চড়া সুদে পার্সোনাল লোন নেওয়া এখনই বন্ধ করুন। বাড়ি কেনার পরপরই সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় অতিরিক্ত ডেকোরেশনের চক্করে পড়ে দেনার বোঝা বাড়ানো। মনে রাখবেন, ঘরের ইন্টেরিয়র বা দামী আসবাবপত্র পরেও আস্তে আস্তে করা যাবে, কিন্তু এই মুহূর্তে আপনার প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
দ্বিতীয় কাজটি হলো আপনার মাসিক বাজেটে 'জরুরি কাটছাঁট' চালানো। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ, যেমন-দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা ঘন ঘন কেনাকাটা পুরোপুরি স্থগিত রাখুন। প্রতি মাসের অনাবশ্যক ছোট ছোট খরচগুলো বাঁচিয়ে যে টাকাটা জমা হবে, তা সরাসরি আপনার দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
তৃতীয়ত, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন 'জরুরি তহবিল' বা ইমার্জেন্সি ফান্ড গড়ে তোলার দিকে নজর দিন। আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ, তা যত ছোটই হোক না কেন, আলাদা করে জমাতে শুরু করুন। একই সাথে, যদি আপনার কেনা বাড়িটিতে কোনো অতিরিক্ত ঘর বা স্পেস থাকে, অথবা পুরো বাড়িতে এখনই ওঠার প্রয়োজন না হয়, তবে সেটি সাবলেট বা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে বাড়তি কিছু আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।
চতুর্থত, একাধিক ছোট ছোট দায় থাকলে সেগুলো দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করুন এবং মূল ব্যাংকের ইএমআই যেন কোনো অবস্থাতেই বকেয়া না পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে আপনার দ্বিতীয় কোনো আয়ের উৎস বা সাইড হাসল শুরু করার চেষ্টা করুন। আপনার দক্ষতা ব্যবহার করে পার্ট-টাইম কাজ বা ফ্রি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত আয় হবে, তা আপনার সঞ্চয়ের শূন্যতা খুব দ্রুত পূরণ করে দেবে।
বাড়ি কেনার পর সঞ্চয় শূন্য হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা ও ধর্য ধরে এগোলে আগামী এক বছরের মধ্যেই আবার শক্তিশালী সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব।
বাড়ি কিনতে গিয়ে সঞ্চয় শেষ, তারপর কী করবেন?
স্বপ্নের বাড়ি কিনতে গিয়ে হাতের সব জমানো টাকা শেষ? পকেট শূন্য দেখে ভয় পাচ্ছেন? খবরদার! নতুন করে ইন্টেরিয়র বা ঘরের সাজসজ্জার জন্য ক্রেডিট কার্ড বা চড়া সুদে ঋণ নেবেন না! সব অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করুন, আয়ের একটা অংশ দিয়ে আবার ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন আর প্রয়োজনে সাইড ইনকাম বাড়িয়ে পকেট আবার ভারী করুন!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি