পাখির মত আকাশে উড়ে বিস্ময়কর উড়ুক্কু মাছ

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: সাগরের পানি ছাড়াও উড়তে পারা প্রকৃতির এক অনবদ্ধ সৃষ্টি হলো ফ্লাইং ফিশ যাকে, আমাদের দেশে বলা হয় উড়ুক্কু মাছ। বিশ্বমন্ডলীয় সাগরে এই প্রজাতির মাছ দলবদ্ধভাবে রাজত্ব করে। ধারণা করা হয় ডাইনোসরের আগে থেকেই এই মাছের অস্তিত্ব ছিল এমনকি আকাশে পাখি ওড়ার আট কোটি বছর আগে থেকেই পৃথিবীতে এই মাছের রাজত্ব।

জাপান ভিয়েতনাম বারবার ও ভারত সাগরে ফ্লাইং ফিশ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়, সাগরের নীল জলরাশির উপর ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায় ফ্লাইং ফিশ; এরা পাখির মত উড়তে না পারলেও পানির উপর বেশ লাফিয়ে লাফিয়ে চলে মূলত শত্রুর হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য তারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করে!

তাদের রয়েছে স্ট্রিমলাইট টরপেডো আকৃতির পৃষ্ঠ এবং ডানার মত একজোড়া পাখনা যা তাদের পানির উপর লাফিয়ে চলতে সহায়তা করে। ওড়ার অদ্ভুত ক্ষমতা থাকার কারণে এই মাছকে শিকারে পরিণত করতে বড় বড় মাছেদেরও বেশ বেগ পেতে হয়! এদের ওড়ার মূল রহস্য হচ্ছে এই মাছের বক্ষপাতটা থাকে অনেক বড় যা ডানা বা পাখার মত কাজ করে এবং এদেরকে সাহায্য করে পানির উপরে উড়ে বা লাফিয়ে চলতে। 

উড়ন্ত এই মাছ মূলত বাতাসের গতি বা ঢেউ এর অবস্থার উপর নির্ভর করে এরা ৩০ সেকেন্ড অব্দি বাতাসে ভেসে থাকতে পারে, অনেক সময় আরো বেশি সময়ও ভাসতে পারে। এ প্রজাতির উড়ন্ত মাছ চার ফুট থেকে ৬৫৫ ফুট পর্যন্ত উড়তে পারে এবং তাদের গতি ঘন্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। এদের মধ্যে ফোর উইংড ফ্লাইং ফিশ ৪ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে এই কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের উপর আছড়ে পড়ে। 

মাছটি উড়ে বেড়ানোর পদ্ধতিটাও বেশ চমৎকার, প্রথমে মাছটি সাগরের পৃষ্ঠে লাফ দিয়ে ওঠে তারপর মাত্র এক সেকেন্ডে ৭০ বার সাগরের পৃষ্ঠে লেজ নাড়িয়ে অগ্রসর হতে থাকে। হাঙ্গর বা বড় মাছেদের আক্রমণের হাত থেকে পানির নিচ থেকে বেঁচে ফিরলেও পানির উপরে উড়তে গিয়ে এরা আবার  সামুদ্রিক বড় পাখির শিকারে পরিণত হয়। 

আলোর প্রতি উড়ুক্কু মাছের রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা আর তাদের এই আলোর নেশাকে কাজে লাগায় মাছ শিকারীরা। নজরকাড়া বিভিন্ন রকম আলো দেখিয়ে শুকুর শোলে ছড়ানো জালের মধ্যে তাদের আটকে ফেলে জেলেরা।

 উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই মাছ প্রচুর পরিমাণে ধরা হয়। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ