যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বন্দর অবরোধ অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এমন ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  এ প্রেক্ষিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণাকে নিশ্চিতভাবেই একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় কেনার অপকৌশল হিসেবে দেখছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখবে। ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে-যা অপ্রত্যাশিত ছিল না। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমাদের কাছে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন। তাই আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং অন্যান্য সব দিক থেকে প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে বলেছি। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করছি।’

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা ‘অর্থহীন’। তিনি বলেন, ‘পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।’ মোহাম্মদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও বলেছেন, অবরোধ অব্যাহত রাখা বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয় এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দিতে হবে। তাছাড়া, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিশ্চিতভাবেই একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় কেনার অপকৌশল। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখন চলে এসেছে।’

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ তাদের একজন প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানে হতে যাওয়া আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছে ইরান। সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে না আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাসনিম নিউজের ভাষ্যে, ‘এই কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত আজ ঘোষণা করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করা কেবল সময়ের অপচয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপযুক্ত চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই ইরান আমেরিকানদের সাথে কোনো আলোচনায় বসবে না।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান তাদের এই অবস্থানের কথা পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের অবহিত করেছে যে আগামীকাল পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় তারা উপস্থিত থাকছে না। তবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

—জা.অর্থনীতি/এএইচএ