ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সাম্প্রতিক এক নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্য বিতান ও শপিং মল বন্ধ থাকবে। সরকারের এই জরুরি নির্দেশনা মোতাবেক রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সন্ধ্যার শো স্থগিত রাখছে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘ব্লকবাস্টার সিনেমাস’। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্সটি তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এদিকে, প্রেক্ষাগৃহ থেকে ঈদ উৎসবের রেশ না কাটতেই দর্শকদের জন্য এটি বেশ হতাশার খবর। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত জারি থাকবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এর মধ্যে অগ্রিম টিকিট যারা সংগ্রহ করেছেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষ।
প্রেক্ষাগৃহের প্রাইম টাইম ধরা হয় সন্ধ্যা ৬টার পরের শোগুলোকে। সেটাই এখন বন্ধ হলো। কারণ, হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানালো, সরকারি সিদ্ধান্তের কথা।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের সাম্প্রতিক জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর সকল দোকান আর মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এতে আরও জানানো হয়, রোববার থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর সংশ্লিষ্ট শোগুলোর জন্য যারা অগ্রিম টিকিট ক্রয় করেছেন, তাদের সকলকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রিফান্ড প্রদান করা হবে।
এদিকে, ব্লকবাস্টারের এমন সিদ্ধান্তের পর আতংক ছড়িয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সমুখি দর্শকমনেও। কারণ, সিংহভাগ সিনেমার দর্শক সন্ধ্যার পরেই প্রেক্ষাগৃহে ঢুকতে চান।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। সেটি নিয়ে পর্যালোচনা করছি। তবে, আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সকল শো আমরা স্থগিত করেছি। এর পরের সিদ্ধান্তগুলো আমরা ধারাবাহিকভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানাবো।
তিনি জানান, এই দুই দিনের শোয়ের টিকিট অগ্রিম বিক্রি করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে, রিফান্ড জটিলতা থেকে মুক্ত থাকছে দর্শকরা।
অন্যদিকে, স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টারের পথে দেশের অন্য প্রেক্ষাগৃহগুলোও হাঁটছে বলে জানা গেছে। যা সিনেমার চলমান বাজারে নতুন ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে, থমকে গেছে জ্বালানি তেলের আমদানি-রপ্তানি। আর এই সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ফলে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে বাংলাদেশ সরকার।
এই পদক্ষেপে রাজধানীর সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে জ্বালানির দিক বিবেচনায় সতর্কতা। অন্যদিকে, উৎসবের আনন্দে শো বন্ধ হওয়ার হতাশা।
—জা. অর্থনীতি/এনএ


