বাংলাদেশ জাতীয় বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। রোববার (৫ এপ্রিল) এ কমিটির সদস্যরা একে একে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন। এদিন তারা এনএসসিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে, কমিটির ডাকে সাড়া দেননি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ বিষয়ে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আমরা চিঠি লিখেছিলাম। উনাকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং বক্তব্য শোনা এবং উনি কিছু বলতে চান কি না তা জানার জন্য। আমরা উনাকে সময় দিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করেছি, কিন্তু উনি আমাদের কাছে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সুপারিশ দিয়েছি। বিশেষ করে সম্পর্কগুলো কীভাবে আরও সুন্দর করা যায় এবং যেসব ভুল বা বিচ্যুতি পাওয়া গেছে তা কীভাবে সংশোধন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আমরা নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। উনারা (নির্বাচন কমিশনের সদস্য) সরাসরি না আসলেও আমাদের প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিয়েছেন। রিপোর্টে এসব তথ্য আপনারা বিস্তারিত পেয়ে যাবেন।
এর আগে, গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এনএসসি। মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না– সেটি খতিয়ে দেখাই ছিল কমিটির মূল দায়িত্ব। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা প্রতিবেদন জমা দিলো।
উল্লেখ্য, তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বড় একটি অংশ বিসিবির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। একইসঙ্গে তারা বয়কট করে আসছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। যে কারণে এখনো বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ায়নি। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্রীড়া সংগঠকরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন এনএসসির কাছে।
এদিকে, তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা কেন অনুপস্থিত ছিলেন, সেই ব্যাখ্যা দিলেন এক ফেসবুক পোস্টে।
জানা গেছে, বেশ কিছু কারণে তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেননি আসিফ। তিনি বলেছেন, আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি: প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও বলেছেন, যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোনো সদুত্তর পাইনি। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, কীভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হব না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।
—জা. অর্থনীতি/এনএ

