স্বাস্থ্য ডেস্ক: সংক্রমণ বাড়ায় দিনদিন হামে মৃত্যু বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের এবং হাম সন্দেহে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় এক হাজার ১৯৭ জন সন্দেহভাজন এবং ১৬৫ জন নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হামের প্রার্দুভাব রোধে আজ সারাদেশে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।
প্রথমদিন প্রায় ১১ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ৩ সপ্তাহের এ কর্মসূচিতে মোট টিকা পাবে এক কোটি ৭০ লাখ শিশু।
এর আগে ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার রাতে বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাবের পুনরুত্থান: নীতিগত দুর্বলতা, ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ও শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজন বিষয়ে একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাইয়েদা হুমায়দা হাসান।
এই শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশে আগেও হামের প্রাদুর্ভাব ছিল। সেটা খুব ছোট পরিসরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় দেখা যেত। এখন প্রতিটি জেলায় শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে একটি হাসপাতালেই ২৪০ জনের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।
তিনি বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা কম বয়সি শিশুদের জন্য হাম বিধ্বংসী রূপ ধারণ করছে। হাসপাতালে শিশুদের আলাদা রাখার দরকার হলেও পর্যাপ্ত শয্যা বা জায়গার অভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) ফোরামের আহ্বায়ক ও পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং কমিউনিটি ও পরিবার উভয় পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। এজন্য সমন্বিতভাবে স্থানীয় ও জাতীয় উদ্যোগ জরুরি।
টিকা বিশেষজ্ঞ (ভ্যাকসিনোলজিস্ট) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, সম্প্রতি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকাদানের কভারেজ কমে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সেবা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ঘাটতি প্রধান ভূমিকা রাখছে। এজন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং টিকাদান কার্যক্রমের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩ সপ্তাহ (১১ কর্মদিবসে) ১ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ৯৩৮ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম দিন পাবে ১১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৯ জন শিশু।
ইপিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২ লাখ ৮২ হাজার ৫১০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের ওয়ার্ড পর্যায়েও টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার।
—জা.অর্থনীতি/এনজে

