সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন নাজুক অবস্থায় বোরো ফসল রক্ষায় যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এদিকে হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের কৃষকদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বোরো ধান তাদের সারা বছরের প্রধান জীবিকা হওয়ায় আগাম বন্যার এই সতর্কবার্তা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ-১ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়। একইভাবে পাউবো সুনামগঞ্জ-২ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেনও সতর্কতা জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোসহ আগাম বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া হাওরের অভ্যন্তরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তাই ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। যেসব জমির ধান অন্তত ৮০ শতাংশ পেকেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কর্তন করে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে।”
তবে চলতি বোরো মৌসুমে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত বোরো ধান কাটতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে চিঠিতে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান।
—জা.অর্থনীতি/এনজে

