ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তার কাজ দিয়ে দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছেন বারবার। যেখানে হাত দিয়েছেন সফল হয়েছেন। এবার টালিউড থেকে দিল্লির সংসদ ভবনে। নতুন অধ্যায় শুরু করলেন টালিউড এই অভিনেত্রী। না, এটি তার নতুন কোনো সিনেমার গল্প নয়। কোয়েল মল্লিক পা রাখলেন রাজনীতির অঙ্গনে। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভারতের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন এই চিত্রনায়িকা।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, ওড়িশা এবং মহারাষ্ট্র থেকে আরও ১৯ জন শপথ নেন। শপথ উপলক্ষে এদিন সংসদে তার বাবা রঞ্জিত মল্লিক ও মা দীপা মল্লিক এবং স্বামী নিসপাল সিং উপস্থিত ছিলেন। টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ক্যারিয়ারের ২২ বছরে কখনো বিতর্কে জড়াননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার এবং বাবা রঞ্জিত মল্লিকের বরাবরই ভালো সম্পর্ক ছিল।
মাসখানেক আগে রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে নির্বাচনি কাজে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় গুঞ্জন ওঠেছিল- সিনেমাপাড়ার পাঠ চুকিয়ে এবার তাহলে রাজনীতির মাঠে যোগ দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী? সরাসরি রাজনীতির ময়দানে না এলেও রাজনীতির রঙ এবার তার ক্যারিয়ারে লাগল।
কোয়েল মল্লিকের স্বামী প্রযোজক নিসপাল সিং ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক। কোয়েল-নিসপাল দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।
নিজের আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক হিসেবেই শপথ নিয়েছেন তিনি। বাংলা ভাষায় কোয়েলের শপথ গ্রহণের মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, কেউ আবার সমালোচনাও করছেন।
এদিন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মহারাষ্ট্রের মোট ১৯ জন সাংসদ শপথ গ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ জন, তামিলনাড়ু থেকে ৬ জন, ওড়িশা থেকে ৩ জন ও মহারাষ্ট্র থেকে ৫ জন সাংসদ শপথ নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোয়েলসহ নির্বাচিত ৫ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান দেশের উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন।
শপথ গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল মল্লিক জানান, এটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, অভিনয়ের মাধ্যমে আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ এসেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং নারী ও শিশুদের উন্নয়নের বিষয়গুলো আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংসদে তুলে ধরতে চাই।
বাবা রঞ্জিত মল্লিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনসেবায় আগে থেকেই আগ্রহী ছিলেন কোয়েল। তবে, সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভক্তদের জন্য বড় চমক ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোয়েলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তাকে আগামী দিনে একজন প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
কোয়েল মল্লিক জানিয়েছেন, রাজনীতিতে পা রাখলেও তিনি অভিনয় থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। ভালো চিত্রনাট্য পেলে অবশ্যই কাজ করবেন। তবে, এখন থেকে তার সময়ের বড় একটি অংশ বরাদ্দ থাকবে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান এবং সংসদীয় কাজের জন্য। চলতি অধিবেশন থেকেই কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার বিতর্কে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
—জা. অর্থনীতি/এনএ

