বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পুনরায় শুরু করছে কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করায় বড় ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা রাজধানী দোহার প্রধান বিমানবন্দর তথা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট কার্যক্রম ‘ধীরে ধীরে পুনরায় চালু’ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যুদ্ধাবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার পর প্রধান এই বিমানবন্দরটি বিদেশি ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাতার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর এক নিবিড় ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন শেষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিমানচালকদের জন্য এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি (NOTAM) জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়েছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে বিদেশি ক্যারিয়ারগুলো পুনরায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পর্যায়ক্রমিক পন্থায়। কাতারি কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমানে তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্মরণকালের ভয়াবহ এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার তার আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। গত ৭ মার্চ পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় মনে হওয়ায় শুধুমাত্র জাতীয় বিমান সংস্থা ‘কাতার এয়ারওয়েজ’-এর জন্য আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তখনো বহাল ছিল।

কূটনৈতিক মহলের মতে, গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে, কাতারের এই সিদ্ধান্ত মূলত তারই একটি সরাসরি সুফল। সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কাতারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট পুনরায় সচল হওয়া সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য যে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের ডামাডোলে এই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছিলেন এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন সেক্টরে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। কাতারের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন সংঘাতের পথ ছেড়ে পুনরায় স্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আপাতত ধীরে ধীরে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে কাতার তার আকাশপথকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

জেএ/অভি