বিলীন হলো বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ চার দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার পথে বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল ‘এ-২৩-এ’ (A-23a)। অ্যান্টার্কটিক অ্যান্ড আর্কটিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ মহাসাগরে ভাসমান অবস্থায় এই বিশালাকায় হিমশৈলটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি তার মূল আয়তনের প্রায় ৯৯ শতাংশই হারিয়েছে, যা এক সময়ের বিশাল তুষার সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার ফিলচনার-রন আইস শেলফ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই হিমশৈলটির প্রাথমিক আয়তন ছিল প্রায় ৪ হাজার ১৭০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বড় ছিল। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি ওয়েডেল সাগরের অগভীর জলভাগে আটকে ছিল। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এটি পুনরায় সচল হয়ে উন্মুক্ত জলভাগের দিকে যাত্রা শুরু করলে নতুন করে বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে হিমশৈলটি দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছে দীর্ঘ সময় সেখানে স্থির থাকে এবং পরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। তবে গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে এটি বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়ে এবং তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সেই সময়েই এটি বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈলর তকমা হারায় এবং এর আয়তন মূল আকারের মাত্র ৩০ শতাংশে এসে ঠেকে। ক্রমাগত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এর ক্ষয় প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হতে থাকে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও এই হিমশৈলটির আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে এটি নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৫০ বর্গকিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়েছে। এ-২৩-এ বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরের সীমানা পেরিয়ে ৪৯ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সমুদ্রের ঢেউ এবং পানির বাড়তি উষ্ণতার কারণে হিমশৈলটি ক্রমাগত গুঁড়িয়ে যাচ্ছে এবং এর অবশিষ্টাংশগুলো ধীরে ধীরে সাগরে মিশে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত তিন মাসে এই বরফখণ্ডটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে এবং বর্তমানে এটি কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ৪০ বছর ধরে বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই হিমশৈলটির বিলুপ্তি প্রাকৃতিক বিবর্তনের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সাগরের বুকে বিশাল এক তুষারখণ্ডের এই সলিল সমাধি পরিবেশগত পরিবর্তনের এক দৃশ্যমান নজির হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জেএ/অভি