পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বিভিন্ন জনমত জরিপে তৃণমূল-বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো রাজ্যে এক উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত পরিবেশ বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, প্রশাসনের ব্যাপক রদবদল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুংকারে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি ময়দান। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন—রাজ্যে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন অব্যাহত থাকবে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে বিজেপি নতুন ইতিহাস গড়বে। নির্বাচনি ময়দানে এবার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি।

এবারের নির্বাচনে দুই দফায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী বুধবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে লড়াই হবে। পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে রাজ্যজুড়ে প্রায় পৌনে তিন লাখ কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৫৫০ কোম্পানি বাহিনী জেলাগুলোতে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পরিচালিত জনমত জরিপগুলোতে অত্যন্ত মিশ্র ও রহস্যময় ফলাফল উঠে এসেছে। সি-ভোটার, এবিপি এবং টাইমস নাউ-এর জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসকে ১৫৮টি আসন দিয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যেখানে বিজেপিকে দেওয়া হয়েছে ১১৫টি আসন। ইটিজি রিসার্চ এবং ইপসোস-এর সমীক্ষাতেও তৃণমূলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ জরিপেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা দেখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস এবং রিপাবলিক-সিএনএক্সের মতো কিছু সমীক্ষা বলছে লড়াই হবে অত্যন্ত সমানে-সমান বা ‘কাঁটে কি টক্কর’। তাদের মতে, বিজেপি ১৪৩ থেকে ১৪৭টি আসন পেয়ে তৃণমূলের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ইন্ডিয়া টিভি গোষ্ঠী, যাদের জরিপে বিজেপিকে ১৯২টি বিশাল আসন দিয়ে একচ্ছত্র বিজয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষার গড় করে তৈরি ‘পোল অব পোলস’ বলছে রাজ্যে একটি ত্রিশঙ্কু বা ঝুলন্ত বিধানসভার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যেখানে তৃণমূল ১৪১ এবং বিজেপি ১৩৮টি আসন পেতে পারে।

সব মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি পরিস্থিতি চরম রহস্য ও রোমাঞ্চে ঘেরা। একদিকে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস এবং অন্যদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আগ্রাসী প্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মাঠপর্যায়ের জনমত এবং জরিপের ফলাফলের এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করছে যে, এবারের লড়াই হবে রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কার গলায় জয়ের মালা পরাবেন, তা নিয়ে এখন পুরো ভারতের রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

জেএ/অভি