- কাদিগড়ের রূপান্তরের গল্প
- আয়তন প্রায় ৯৫০ একর
- এখানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, ইকো কটেজ, গোলঘর
- হনুমান, শিয়াল, শজারু, মেছো বিড়ালসহ দেখা যায় নানা বন্যপ্রাণী
- যাওয়ার উপায়: ঢাকা → সিডস্টোর বাজার → সিএনজি → কাদিগড়
- ভ্রমণের সবচেয়ে উপযোগী সময় শুষ্ক মৌসুম
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: একসময় সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছের বাগান, আর আজ সেখানে ঘন সবুজের প্রাকৃতিক বিস্তার। ময়মনসিংহের ভালুকার কাদিগড় বিট যেন মানুষের পরিকল্পনা আর প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ততার এক অনন্য মিলনস্থল। সময়ের প্রবাহে এই বন এখন হয়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এক প্রাণচঞ্চল আবাসভূমি।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের অধীন ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। গজারী, সেগুন, অর্জুন ও মিনজিরির বাগান ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক বনের রূপ নিয়েছে। উঁচু গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো, বাতাসে পাতার মর্মর আর পাখির কলতানে বনজুড়ে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। এই বনে নিয়মিত দেখা মেলে হনুমান ও বানরের দল। পাশাপাশি রয়েছে শিয়াল, শজারু, মেছো বিড়াল, বনবিড়াল, বাগডাশ ও বেজি। বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, তক্ষক, ব্যাঙ ও গুইসাপও এখানে বিচরণ করে। রঙিন প্রজাপতি আর নানা পাখির উপস্থিতি বনটিকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
অবস্থানগতভাবে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ভালুকা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ— ঢাকা থেকে বাসে সিডস্টোর বাজার, সেখান থেকে সিএনজিতে অল্প পথ পাড়ি দিলেৃই পৌঁছানো যায়। শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকা বনভোজনপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এখানে সময় কাটাতে আসেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে সবুজের গুরুত্ব নতুন করে অনুভব করেন ভ্রমণকারীরা।
লোকমুখে জানা যায়, একসময় কাদির মিয়া নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী এই এলাকার গাছ সরকারি টেন্ডারে কিনতেন। তার প্রভাব এতটাই ছিল যে অন্য কেউ অংশ নিতে পারতেন না। সেখান থেকেই ‘কাদির মিয়ার জঙ্গল’ নামটি ধীরে ধীরে ‘কাদিগড়’নামে পরিচিতি পায়।
পরিকল্পিত সংরক্ষণ আর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ভবিষ্যতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাইলে, একটু নির্মল নিঃশ্বাস নিতে চাইলে কাদিগড় হতে পারে সেই নির্ভেজাল ঠিকানা।

