তেলের সংকটে বাইক রাইডারদের কান্না, বিপাকে যাত্রীরাও

মেহরাব অন্তু: দেশে দ্রুত যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম বাইক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস। একসময় যেখানে সহজেই পাওয়া রাইড যেত, এখন সেখানে জ্বালানি সংকট আর তেলের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা চালক ও যাত্রীরা।

একদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে খরচ আর অন্যদিকে কমেছে আয়। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। ফলে রাস্তায় নামার সময় কমে যাচ্ছে।

তেলের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। ফলে বাকি সময় যতই চেষ্টা করা হোক, আগের মতো আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক বাইক রাইডার বলেন, আগে ১৫০০-২০০০ টাকা ইনকাম করতে পারতাম। কিন্তু এখন ১০০০ টাকা ইনকাম করতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষ্যে, আমরা ভাড়া বাড়াইনি। ভাড়া বাড়তি চাইলেই যাত্রীরা বলে, ভাড়া কেন বাড়তি দেবো। তেল তো আপনাদের আছেই। আমরা যাত্রীদের বোঝাতে পারি না পাম্পের লাইনে ৮-৯ ঘণ্টা চলে যায়। এই ৯ ঘণ্টায় আমাদের ইনকাম বসে যায়।

আরেক বাইক রাইডার জানান, তেলের ভোগান্তির আগে ইনকাম মোটামুটি ভালো ছিল। সারাদিনে ১০০০-১৫০০ টাকা ইনকাম হতো। এখন তেল তুলতেই আমাদের অর্ধেক বেলা চলে যায়। একবেলা তেল তুলতে যায়, আরেকবেলা কতই বা ট্রিপ তুলবো ৫০০-৭০০ টাকা। এর বেশি তো সম্ভব না।

এদিকে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যাত্রীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মিলছে না। বরং অনেক সময় যাত্রীরা অন্য রাইডারের জন্য অপেক্ষা করেন। ফলে চালকেরা পড়ছেন দ্বিমুখী চাপে—খরচ বাড়ছে, কিন্তু ভাড়া বাড়ানো যাচ্ছে না।

অপরএক রাইডার বলেন, অনেকেই আছে যাদের ব্যবহার ভালো, বললে তারা বাড়িয়ে দেয়। বেশি ভাড়া চেয়ে তো লাভ নেই, সেক্ষেত্রে তারা কন্সিডার করে না। তাই অনেকে ১৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা চায়, ২০০ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা চায়। এভাবে তো হয় না।

তবে শুধু চালকরাই নয়, ভোগান্তিতে আছেন যাত্রীরাও। আগের মতো দ্রুত রাইড পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেও মিলছে না কোনো রাইডার।

যাত্রীরা বলেন, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য এক্সট্রা হ্যাম্পার। কারণ আমরা যে ভাড়া দিয়ে সবসময় যাতায়াত করি, ফুয়েল ক্রাসিসের সময় এমনি ভাড়া বেড়ে গেছে। রাইডাদের আগে যেমন কল করলেই পেয়ে যেতাম, এখন ৪০ মিনিটেও কেউ যেতে চায় না। এতে আমরা সময়মতো কাজে যেতে পারি না। এটা যেমন ওনাদের জন্য কষ্টকর, তেমনি যারা যাত্রী আছে- ভাড়া বেড়ে গেলে তাদের ক্ষেত্রেও অনেকটা ভোগান্তি। এটা আসলেই চিন্তার ব্যাপার।

তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক চালকই অনলাইনে আসছেন না। অনেকে পেশা ছাড়ার কথাও ভাবছেন। ফলে কমে যাচ্ছে সার্ভিসের সংখ্যা, আর সেটাই প্রভাব ফেলছে পুরো রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থায়।

আবার কিছু চালক অ্যাপের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছেন, যাতে লাইনের ভোগান্তি কিছুটা সামাল দেওয়া যায়। তবে এতে অনলাইন সার্ভিসের কার্যকারিতাও কমে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে এই খাতে সংকট আরও বাড়তে পারে। কারণ এটি সরাসরি নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর।

সব মিলিয়ে তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাইক রাইড শেয়ারিং খাতে। চালক ও যাত্রী- দুইপক্ষই এখন চাপে।

 —জা.অর্থনীতি/এনজে