গ্রামীণ জনপদে ব্লক রোড: টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে চিরাচরিত বিটুমিন বা পিচঢালা রাস্তার ধারণা পাল্টে দিচ্ছে পরিবেশবান্ধব ‘ইন্টারলকিং কনক্রিট ব্লক’। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই প্রকৌশল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থার দৃশ্যপট।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এই উদ্যোগে একদিকে যেমন সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টেকসই উন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ব্লকের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও নিচু অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি বিটুমিনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বশিকপুর ও দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দৃষ্টিনন্দন ব্লক রোডগুলো গ্রামের চিরচেনা রূপকে আধুনিক রূপ দিয়েছে। 

বশিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমেদ উল্লাহ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ত। এখন ব্লকের রাস্তা হওয়ায় সেই ভয় নেই। গ্রাম এখন শহরের মতো পরিপাটি লাগে।”

প্রকৌশলীদের মতে, পরিবেশগত দিক থেকেও এই প্রযুক্তি বিটুমিনের চেয়ে উন্নত।

নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদাররা জানান, কনক্রিট ব্লক তাপ শোষণ কম করে এবং বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে প্রবেশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া রাস্তার কোনো নির্দিষ্ট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সম্পূর্ণ সড়ক খনন না করে কেবল আক্রান্ত ব্লকের অংশটি পরিবর্তন বা মেরামত করা সম্ভব, যা অত্যন্ত ব্যয় সাশ্রয়ী।

সুফল ভোগ করছেন স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষও। দত্তপাড়া এলাকার ভ্যানচালক করিম মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে অনেক আরাম, ঝাঁকুনি হয় না। গ্রামের ভেতর এমন আধুনিক রাস্তা হবে সেটা আগে কখনো ভাবিনি।”

বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রনজিত চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ব্লকের রাস্তা টেকসই ও সুন্দর। জেলার গ্রামিণ সড়কগুলো ব্লকের তৈরি করারও দাবি জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হওয়ায় ব্লকের রাস্তা এখন জনমানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ইতোমধ্যে আমরা প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক সম্পন্ন করেছি। সাধারণ মানুষের ব্যাপক চাহিদা ও ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় আগামীতে এ ধরনের প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো বিনির্মাণে ইন্টারলকিং কনক্রিট ব্লক প্রযুক্তি জেলার অন্যান্য প্রান্তেও অনুকরণীয় হতে পারে।

 —জা.অর্থনীতি/এনজে