ক্রীড়া ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটের বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন পেসার নাহিদ রানা। আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে, পুরো স্পেলে তিনি ধারাবাহিকভাবে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করেন। শুধুমাত্র একবার নিক কেলিকে দেওয়া একটি ধীরগতির ডেলিভারি ছিলো ১১২ কি.মি প্রতি ঘণ্টা। এরপর খোদ কিউই শিবিরেই চলছে নাহিদ বন্দনা! চট্টগ্রামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে মুখোমুখি হবে দুই দল। এর আগে, বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের সংবাদ সম্মেলনও হয়ে গেলো নাহিদময়।
নাহিদকে টানা তিন ম্যাচ খেলানো হবে কি না, চোটে পড়ার ঝুঁকি আছে কি না, তার সঙ্গে কাজ করা কতোটা উপভোগ্য—এসবের মধ্যে এল এই প্রশ্নটাও, নাহিদ কি আরও নতুন কোনো অস্ত্র যোগ করছেন তার ভান্ডারে? নাহিদকে নিয়ে এমনিতে উচ্ছ্বাস থাকলেও বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ এ নিয়ে বেশ সতর্ক।
এদিন চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টুয়েন্টিতে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় বল করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টানা জোরে বল করে গেছেন নাহিদ রানা। ১০ ওভারের স্পেলে তিনি একটি বলই কেবল করেছেন ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কম গতিতে। তার উইকেট নেওয়া বলগুলোতেও ছিল বৈচিত্র্য—৫ উইকেটের একটি ফুল লেংথে, তিনটি বাউন্সার আর একটা উইকেট নিয়েছেন ইয়র্কারে।
উইকেট নেওয়া বলগুলোর কোনোটাই ১৪১ কিলোমিটারের কম গতিতে করেননি। এজন্য কোচ টেইট চান, আপাতত নিজের গতিতেই ভরসা রাখুক নাহিদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন—তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে। অনেক বোলার ১৩০ কি.মি গতিতে বল করেন। তাদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে।’
টেইট বলেন, ‘কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে, এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’
—জা. অর্থনীতি/এনএ

