নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানকে ঘিরে আবারও জমে উঠতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা।
লালদিঘী ময়দানে আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলা। এর আগে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে ৩ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, যা চলবে ২৬ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জানিয়েছে, এ বছর আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল করতে নেওয়া হয়েছে নতুন প্রস্তুতি, পাশাপাশি লালদিঘী চত্বরকেও দেওয়া হয়েছে নতুন রূপ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চসিকের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, “লালদিঘী চত্বরকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছি, যাতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীরা ভিন্ন অভিজ্ঞতা পান।”
মেয়র জানান, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যুবসমাজকে শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিবছর হাজারো মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয়।
আয়োজকরা জানান, এই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করতে লালদিঘী মোড়ের নাম ‘জব্বারের মোড়’ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
এবারের বলীখেলায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চসিক মেয়র নিজেই। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
মেলা ও বলীখেলা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিএমপি ও র্যাবের তত্ত্বাবধানে পুরো এলাকা থাকবে নজরদারির আওতায়। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, ব্যবহার করা হবে ড্রোন নজরদারি। পাশাপাশি সোয়াট টিম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনা এড়াতে মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিসও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, “আমরা চাই জব্বারের বলীখেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করতে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”
তারা মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জনসমাগমের এক বড় আয়োজনকে সামনে রেখে লালদিঘী এখন নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে—যেখানে ইতিহাসের সাথে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক আয়োজনের ছোঁয়া।
—জা.অর্থনীতি/এনজে

