এসএম সামছুর রহমান, বাগেরহাট: শুধুমাত্র লবণাক্ততার কারণে বাগেরহাটে পতিত আছে ১৫ হাজার হেক্টর জমি। এই লবণাক্ততাকে জয় করতে পারলে বাগেরহাটে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। এজন্য যে সমস্ত ফসল লবণ সহ্য করতে পারে সেইসব ফসলের চাষ করতে হবে। এক্ষেত্রে সূর্যমুখী হাইসান-৩৬ জাত ৮ থেকে ১০ ডিএস/মিটার লবণ সহ্য করতে পারে। এছাড়া এই জাতের ফুলগুলো অনেক বড় হয়। যেখানে একটি ফুল থেকে ১২০০ এর মথো পুষ্ট দানা পেয়ে থাকেন কৃষক।
আমন ধান ওঠার পর সেই জমিতে এই জাতের সূর্যমুখী বীজ বপন করলে কৃষক ব্যপক লাভবান হবে। গুণগত মানসম্পন্ন এই জাতের সূর্যমুখী এসব জমিতে চাষ করলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জায়গায়ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষকদের মাঝে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার বাড়াতে এসিআই সীড কোম্পানি কর্তৃক বাজারজাতকৃত সূর্যমুখী হাইসান-৩৬ বীজ নিয়ে মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে কৃষি কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।
ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ ইউনিয়নের কামটা এলাকায় এই মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের, উপ-পরিচালক আলহাজ্ব মোতাহার হোসেন।
প্রাক্তন শিক্ষক লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ শাখাওয়াত হোসেন, এসিআই সীডের পোর্টফোলিও ম্যানেজার গোলাম সোবহান, গোপালগঞ্জ এরিয়ার এরিয়া সেলস ম্যানেজার রিদ্দিকুর রহমান, মার্কেটিং অফিসার মাহমুদুল হাসান, মৃন্ময় দাস, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাস, রত্না রায় প্রমুখ।
মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, হাইসান-৩৬ একটি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড সূর্যমুখী বীজ, যা স্বল্প সময়ে অধিক ফলন দিতে সক্ষম। দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের আধুনিক বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের তেল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব।
স্থানীয় কৃষকরা সূর্যমুখী হাইসান-৩৬ বীজের উৎপাদন পদ্ধতি, ফলন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রম তাদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়াবে। পরে সেরা কৃষকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।


