২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ জনজীবনে হাঁসফাঁস
  • বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
  •  ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তি, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ। 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বৈশাখের শুরু থেকেই প্রকৃতিতে গরম মেজাজ। প্রতিদিনই একটু একটু করে উঠছে তাপমাত্রার পারদ। গতকাল রাজশাহী, খুলনা বিভাগসহ দেশের ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র। এদিন বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাপদাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা লক্ষ করা গেছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষরা পড়েছেন বেশ বিপাকে।

মালিবাগ মোড়ে প্যাডেলচালিত রিকশাচালক মো. মোবারক বললেন, ‘এই গরমে অনেক কষ্ট হয় রিকশা চালাতে। পানির বোতল সঙ্গে রাখছি। একটা খেপ (ভাড়া) নিয়ে গন্তব্য যেতেই হাফিয়ে যাচ্ছি। বেশিক্ষণ রিকশা চলাতে পারছি না।

খিলগাঁওয়ে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করা পঞ্চাশোর্ধ মোতালেব করিম বলেন, ‘গরমে মাল টানতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এত হয়রান লাগে বলার মতো না। পানির তৃষ্ণা লাগে খালি।

শুধু শ্রমজীবী নয়, অফিসগামী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষই গরমে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন। কারওয়ানবাজারে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, ‘গরমে লোকাল বাসে চড়তে অনেক কষ্ট হয়। অনেক ভিড় থাকে। সবারও জায়গা থাকে না। গরমে জ্যামে বসে থাকতে আরও বেশি কষ্ট হয়।’ 

গরমে রাস্তা ও ফুটপাথে নানা রকম ঠান্ডা শরবতের ব্যবসা জমে উঠেছে  বেশ।  লেবু-আখসহ নানারকম এসব শরবত স্বাস্থ্যসম্মত কিনা সেই চিন্তা না করেই পান করছেন রিকশাচালক, ভানচালকসহ রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা। 

এদিকে গতকাল বুধবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর ঢাকায় ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আজ বৃহস্পতিবারও দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। শুধু রাজশাহী নয়, আশপাশের জেলা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায়ও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। এর বাইরে আরও আট জেলায় তাপপ্রবাহ বইছে। জেলাগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৩৬ দশমিক ৩, টাঙ্গাইল ও মাদারীপুরে ৩৬, দিনাজপুরে ৩৬ দশমিক ৫, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৮ এবং বান্দরবানে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে গতকাল।

কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী গতকাল রাজশাহী ছাড়া আরও ৯ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। জেলাগুলো হলো যশোর ও সিরাজগঞ্জে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পাবনায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩, ঢাকায় ৩৬ দশমিক ২ এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে তীব্র রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৫-২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই তাপপ্রবাহের প্রভাব বাড়তে পারে। এক বার্তায় বিডব্লিউওটি জানায়, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোয় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে। রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।

হিটস্ট্রোক এড়াতে বিডব্লিউওটি তাদের পরামর্শে জানিয়েছে, তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এজন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত যখন রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে তখন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া ভালো। দিনেরবেলা ঘরে বা অপেক্ষাকৃত শীতল স্থানে অবস্থান করার চেষ্টা করুন। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। ফ্রিজের অতিরিক্ত কনকনে ঠান্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ঠান্ডা পানি শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।