কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির এক ইউনিট
  • লোডশেডিং ছাড়াল আড়াই হাজার মেগাওয়াট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তার ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে অনেকটা। এর মধ্যে কারিগরি ত্রুটিতে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লোডশেডিং ছাড়িয়ে গেছে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। গতকাল দুপুর ১টার পর এটি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সূত্র জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বন্ধ ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এতে আগামী কয়েক দিন লোডশেডিং সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি গতকাল কেন্দ্রটি বন্ধের পর লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছে।

গতকাল দুপুর ১২টায় আদানির কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতার চলার সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট। তবে আদানির কেন্দ্রটি বন্ধের পর অন্য কেন্দ্র থেকে ব্যাকআপ দিয়েও বিকাল ৪টায় লোডশেডিং দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট। এ সময় আদানির কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে ৭৪৬ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৬টি। এর মধ্যে গ্যাস স্বল্পতায় ১৩টি, জ্বালানি তেল না থাকায় ৯টি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন তালিকার বাইরে আছে। বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সৌর, যা থেকে রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ডিজেলচালিত পাঁচটি কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয় খরচ বেশি হওয়ায়। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এখন ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। গ্যাস– সংকটের কারণে সেখান থেকে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

গরমের শুরুতে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও সব মিলিয়ে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। তবে কেন্দ্রটির দেনা-পাওনা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে টানাপড়েন চলছে আদানির