হাম ও রুবেলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শিশুদের মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর। ভাইরাসজনিত এই রোগের প্রকোপে ইতোমধ্যে ২২০ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না ও সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা। একই সঙ্গে তারা দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-বিগ্রহে শিশু হত্যার প্রতিকারসহ শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন।
খেলাঘরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের প্রাদুর্ভাব দেশে এক উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৭৭৬ জন শিশুর শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ হাজার ১৭২ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬১৭ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোট আক্রান্তের ১৮ শতাংশই বরগুনা জেলার বাসিন্দা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত অনুযায়ী গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল যৎসামান্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই মৃত্যুহার কেন এমন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেল, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে খেলাঘর জানায়, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিথিলতাই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা কেনা নিয়ে নানা জটিলতার খবরও সামনে আসছে। পর্যাপ্ত টিকার অভাবে এতগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, যারা দায়ী সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় শিশু সংগঠনটি।
এ ছাড়া দেশে বিপুলসংখ্যক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, যারা এই সংক্রমণের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে। তাই শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং টিকা কার্যক্রম জোরদারে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে খেলাঘর জানায়, চলতি বছর রেকর্ড সংখ্যক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, প্রতিটি শিশুই রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ। শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে খেলাঘর।
বিবৃতিতে খেলাঘরের সংগঠকরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিশুদের বিপন্ন দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানে ১৬৫ জনেরও বেশি শিশুকে হত্যাসহ যুদ্ধ-বিগ্রহে অসংখ্য শিশুর মৃত্যু সংবাদেও আমরা উদ্বিগ্ন।
হাজার হাজার শিশু বর্তমানে বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম অমানবিক জীবন পার করছে। এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে খেলাঘর জানিয়েছে, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ শ্লোগানে খেলাঘর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যয় না করে সেই অর্থ দিয়ে বিশ্বজুড়ে উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

