২৯০ মিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টো চুরি

প্রযুক্তি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে উত্তর কোরিয়া তাদের সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থ সংগ্রহের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ সাইবার হামলায় তারা একটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম থেকে ২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) হাতিয়ে নিয়েছে। ২০ এপ্রিল টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরির পেছনে পিয়ংইয়ংয়ের কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠী ‘লাজারাস গ্রুপ’ জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক ব্যয়ের তহবিল জোগাড় করতেই উত্তর কোরিয়া এই ধরনের ডিজিটাল দস্যুতা চালাচ্ছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হ্যাকাররা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ কৌশলের মাধ্যমে ওই ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়েছিল। একবার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়ার পর তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে অর্থগুলো বিভিন্ন বেনামী ওয়ালেটে সরিয়ে ফেলে। হ্যাকাররা তাদের অবস্থান লুকাতে ‘মিক্সিং সার্ভিস’ বা ‘টাম্বলার’ ব্যবহার করেছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির উৎস খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

লাজারাস গ্রুপ মূলত উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করে। ইতোপূর্বে তারা সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হামলার মতো বড় বড় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। টেকক্রাঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়া তাদের সাইবার হামলাগুলোতে বিশেষভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি সেক্টরকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কারণ এই খাতে আইনি নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক শিথিল এবং অর্থ স্থানান্তরের গতি অত্যন্ত দ্রুত।

এই চুরির ঘটনা ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এফবিআই এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এক্সচেঞ্জগুলো তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ছিদ্র বন্ধ করতে পারছে না। সাইবার বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের হামলা কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুরিকৃত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি সামরিক বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হবে।

২৯০ মিলিয়ন ডলারের এই চুরির ঘটনা সাইবার যুদ্ধের ময়দানে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক অপরাধ। ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে এখনই আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, সাইবার দস্যুরা বিশ্ব অর্থনীতির ভিত আরও নড়বড়ে করে দেবে।