ভালুকায় ৩৩৫ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত: টেক্সটাইল কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 

ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলার প্রমাণ পাওয়ায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ফসলি জমিতে বর্জ্য পানি ফেলছিল। অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য সরাসরি কৃষিজমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক ক্ষতি করছে- এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের প্রতিনিধি প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

কৃষক প্রতিনিধি প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল ও হ্যারি ফ্যাশন লিমিটেডের বর্জ্যের কারণে ভরাডোবা এলাকার ৩৩৫ দশমিক ৭৪ একর কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা সরকারি তদন্তেও উঠে এসেছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের দাবি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ ছাড়পত্র অনুযায়ী অপরিশোধিত তরল ও গৃহস্থালি বর্জ্য নির্ধারিত পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। বরং আশপাশের কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

—জা.অর্থনীতি/এনজে