সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলা শহরের আলোচিত লন্ডন প্রবাসীর প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোররাতে তাদেরকে শহরের বনানীপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শহরের উত্তর আরফিননগর (পশ্চিম বাজার) বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে মো. ময়না মিয়া (৩২), নতুন হাছননগর এলাকার তাজ উল্লার ছেলে বাচ্চু মিয়া (৪৮), রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা স্বর্গীয় রাজেন্দ্র বণিকের ছেলে বিষ্ণু বণিক (৬৩), পূর্ব তেঘরিয়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জাহের আলীর ছেলে জাবেদ হোসেন (৩৪) ও উত্তর আরফিননগর (পশ্চিম বাজার) এলাকার বাসিন্দা ময়না মিয়ার স্ত্রী লিজা বেগম (২৬)। তারা সবাই পৌর শহরের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ শহরের এক রেমিটেন্স যোদ্ধা বাড়িতে আসলে চোরেরা সুযোগ বুঝে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই প্রবাসীর বাড়ি থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই জহির উদ্দিন তদন্তের মাধ্যমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিরলস প্রচেষ্টায় ওই মামলার মূল আসামি জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি জাবেদের স্বীকারোক্তি মতে অপর আসামি বিষ্ণু বণিক (স্বর্ণ ব্যবসায়ী) ও ময়না এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ও সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম। গ্রেপ্তারদের আজ দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, গত ১২ মার্চে এক লন্ডন প্রবাসী বাড়িতে আসলে ওই ৫ জন সুযোগ বুঝে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লন্ডন প্রবাসীর বাড়ি থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রাসহ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিরলস প্রচেষ্টায় মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামি জাবেদের স্বীকারোক্তির পর অপর আসামি বিষ্ণু বণিক (স্বর্ণ ব্যবসায়ী) ও ময়না, বাচ্চু এবং ময়নার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এই অভিযান সফল করি। আসামিদের রিমান্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে

