মন্ত্রী-এমপিদের কর সুবিধা বাতিল হতে পারে
  • বাজেটে ২৫০টির বেশি এসআরও সুবিধা বাতিল হতে পারে
  • নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কর ছাড় সুবিধা বাতিল হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু চমক থাকতে পারে। বিশেষ করে কর অব্যাহতি সুবিধা সীমিত করা হতে পারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিআইপিদের কর সুবিধা বাতিল। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদসহ অন্যান্য বিশেষ ব্যক্তিদের যে ধরনের কর সুবিধা পান, তা বাতিল হতে পারে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী, বিচারকদের যেসব খাতে কর সুবিধা পান, তা তুলে দেওয়া হতে পারে। কর অব্যাহতি সংক্রান্ত গঠিত কমিটি এই ধরনের অব্যাহতি সীমিত বা তুলে দেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে। এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

উল্লেখ্য, আইএমএফ সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। সে অনুযায়ী সরকার অব্যাহতি সুবিধা কোথাও সীমিত, কোথাও একেবারে তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। এনবিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয়কর খাতে করছাড়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে করপোরেট খাতে প্রায় ৭৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা এবং ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর খাতে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা করছাড় দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ মোট করছাড়ের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সুবিধা পেয়েছে প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তারা।

এনবিআর সূত্রমতে, শুধু বেতন-বোনাস করযোগ্য হওয়ায় সরকারের ৮২ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আয়করের বাইরে রয়ে গেছেন। এমনকি একই কারণে বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগের চার বছর পর্যন্ত আয়কর দিতে হয় না। সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের আয়ের ওপর তাদের কর দিতে হয় না। এনবিআরের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪২ ধরনের আয় করমুক্ত করা হয়েছে। তবে এসবের মধ্যে মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস করযোগ্য আয় হিসাবে ধরা হয়। এসব আয়ের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। 

আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ করবর্ষে যেসব পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক মূল বেতন ২৬ হাজার ৭৮৫ টাকা এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক মূল বেতন ৩০ হাজার ৩৫৭ টাকা বা তার বেশি, তাদের আয়ের পরিমাণ করমুক্ত সীমা অতিক্রম করছে। ফলে তাদের বেতন বিল প্রস্তুতের সময় উৎসে আয়কর কর্তন বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব অব্যাহতির সীমিত বা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

অপরদিকে ২০১৭ সালে এনবিআর সরকারি কর্মচারীদের ভাতাকে করের আওতামুক্ত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন স্বশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবীরা করমুক্ত বিভিন্ন সুবিধা পান। এছাড়াও কোনো আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীনে কোনো পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরাসরি সরকারি কোষাগার হতে বেতন বা আর্থিক সুবিধা যারা পাবেন তারা করমুক্ত সুবিধা ভোগ করবেন। এই তালিকায়ও অব্যাহতির সুবিধা সীমিত করতে পারে এনবিআর।

সূত্র আরও জানায়, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে যে কর ছাড় সুবিধা পায়, সেটিও আগামী অর্থবছর থেকে বাতিল হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন এবং আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের ওপর কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। তেল কোম্পানি, হাসপাতাল, বন্দর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের আয়ের ওপর কর বসতে পারে। 

এছাড়া দাতা সংস্থা, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় রয়েছে। ট্রাস্ট, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং পাটজাত পণ্য উৎপাদনে থাকা করমুক্ত সুবিধাও তুলে দেওয়া হতে পারে। তৈরি পোশাক খাতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ১২ শতাংশ করপোরেট কর নির্ধারিত থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি পর্যালোচনার সুপারিশ করেছে এনবিআর কমিটি। গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতি সুবিধা ২০২৯ সালের পর আর না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আইএমএফ-এর চাপ থাকা সত্ত্বেও এই খাতে কিছু সুবিধা বহাল রেখে বাকিগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যালোচনার অধীনে রাখা হয়েছে। ২৫০টির বেশি এসআরও সুবিধা বাতিল হতে পারে, যার মধ্যে বেশিরভাগের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। এছাড়া কিছু এসআরও সুবিধা পর্যালোচনা ও বাতিলের পথে হাঁটছে এনবিআর।