শেষ হচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’

বিনোদন প্রতিবেদক: টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক আবহ ব্যাপারটি মাঝের একটা সময় একেবারে হারিয়ে যেতে বসেছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও পারিবারিক গল্পের ধারাবাহিক নির্মাণে ঝুঁকছেন নাট্য নির্মাতারা। জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে নাটকগুলো। এর মধ্যে অন্যতম মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’। এখন পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে ৪৬টি পর্ব। এবার ধারাবাহিকটি শেষের পালা। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) শেষ হলো শুটিং। তবে কতোতম পর্বে এটা আমাদেরই গল্প শেষ হবে, তা জানাননি নির্মাতা। 

পাকিস্তানি সিরিজ ‘কাভি মে কাভি তুম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। নাটকের গল্পে উঠে এসেছে পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব আর মমত্ববোধ। নাটকটি চ্যানেল আইয়ে প্রচারের পর দেখা যায় সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে। গত নভেম্বরে প্রচার শুরুর পর থেকে আলোচনায় চলে আসে নাটকটি। ফাহাদ, সামির, মেহরীন, সায়রা থেকে শুরু করে বাবা-মা, ফুফু—নাটকের প্রতিটি চরিত্র প্রশংসিত হয়। 

গতকাল বিকেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে রাজ জানালেন, শেষ হতে চলেছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’! এদিন সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী মনিরা আক্তার মিঠু বলেন, ‘সব শ্রেণির মানুষের কাছে “এটা আমাদেরই গল্প” তুমুল জনপ্রিয়। একজন সিএনজির ড্রাইভারও ঘাড় ঘুরিয়ে বলে, “ও, এটা আমাদেরই গল্পের মা আপনি!” আবার একদম এলিট ক্লাসের একজনও একই প্রশংসা করেন। এটা আমাদের সার্থকতা। এটা আমাদের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সার্থকতা। যদিও উনি প্রশংসা করলে বিব্রত হন।’ 

এই নাটকের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের সাত মাসের জার্নি শেষ হচ্ছে। সাতটা লট করেছি, এটাই লাস্ট। সাত মাস আগেও যখন আপনারা এসেছিলেন, আমি বলেছিলাম মানুষ ফ্যামিলির গল্প দেখতে চায়, এসব নাটক দেখতে মানুষ অপেক্ষা করে। এখন কতোটুকু অপেক্ষা করে, সেটা আপনারা বলতে পারবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে, বিশেষ করে আমার ক্যারিয়ারে গত ২০ বছর আমি দেখিনি কোনো পর্বের জন্য মানুষ এতোটা অপেক্ষা করে, যা দেখলাম “এটা আমাদেরই গল্প” করে!’ 

অভিনেতা ইন্তেখাব দিনার বলেন, ‘আমি অনেক দিন পর একটি চরিত্রের জনপ্রিয়তা উপভোগ করছি, সেটা “এটা আমাদেরই গল্প”র কারণে। নির্মাতা রাজকে ধন্যবাদ, আবার এমন গল্পের নাটক ফিরিয়ে আনার জন্য।’ 

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘আমাদের খারাপ লাগছে যে “এটা আমাদেরই গল্প” একদম শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির এই নাটক টেকনিক্যালি শুটিং অফ হয়ে যাবে। জানি না, এই সেট আর এই গল্প ফিরবে কি না! কিন্তু আপনাদের সবাইকে মিস করবো এবং এই গল্পের দর্শকদের মিস করবো।’ 

খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমার জন্য রাজ ভাই এক বিশাল অভিজ্ঞতা এই প্রজেক্টে। এতোগুলো মানুষ আমরা সাত মাস ছিলাম, একটা পরিবারের মতো সবাই ছিলাম। এই নাটকটি যখন আমি দর্শক হিসেবে দেখেছি, নানা জায়গায় ইমোশনাল হয়েছি। এই নাটকে আমার নাম সামির, অনেক মানুষ আমার প্রকৃত নাম জানেন না; কিন্তু সামির নামে চেনেন। আমার মনে হয়, মানুষ আমাকে সামির নামেই চিনুক!’ 

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘সব সময় চাইতাম অভিনেত্রী হিসেবে এমন কাজ করতে, যেটা আমাকে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। “এটা আমাদেরই গল্প” করার পর মনে হয়েছে, কাল থেকে যদি অভিনয় ছেড়ে দিই তবুও আমার কোন আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি এমন অসাধারণ একটি সিরিয়াল করতে পেরেছি। এই সিরিয়ালটি আমাকে সেই স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’ 

অভিনেত্রী সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল বলেন, ‘আমার চরিত্রটিও যে এতো সাড়া পাবে, এটা আমি ভাবিনি। আমার জীবনে এটা অনেক বড় একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটা সুন্দর পরিবার পেয়েছি, সবার সাথে বন্ডিং, মজা মাস্তি- সাথে কাজটা ভালো করার তাগিদ, সব মিলিয়ে “এটা আমাদেরই গল্প: বেস্ট প্যাকেজ”–ই বলব।’ 

—জা. অর্থনীতি/এনএ