আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় দ্রুত গতিতে শক্তিশালী করছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ রোববার এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘নুর নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের এই সাম্প্রতিক সমর কৌশলের কথা জানান। এমন এক সময়ে এই দাবি সামনে এল যখন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধবিরতির এই শান্ত সময়টি ইরান মূলত তাঁদের সামরিক অবকাঠামো আধুনিকীকরণে ব্যয় করছে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মগুলো পুনরায় প্রস্তুত করার গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসাভির মতে, ইরান যখন দ্রুততর গতিতে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে, তখন তাঁদের প্রতিপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে) এই সময়ে নিজেদের গোলাবারুদ ও যুদ্ধসরঞ্জাম পুনর্গঠনে সফল হতে পারেনি। এই কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বই ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে বলে তিনি মনে করেন।
কমান্ডার মুসাভি তাঁর বক্তব্যে প্রতিপক্ষের লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে অনেক দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ধীরগতিতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের তাৎক্ষণিক সামরিক প্রস্তুতিকে বড় ধরণের বাধার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মুসাভি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যুদ্ধের এই পর্যায়ে প্রতিপক্ষ কার্যত পরাজিত হয়েছে এবং এই অঞ্চলে তাঁদের প্রভাব এখন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।’ তাঁর এই মন্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে এই দাবির স্বপক্ষে কিছু চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। সেখানে একটি সুবিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় সারি সারি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং শক্তিশালী উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সজ্জিত থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে ভূমি থেকে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কিছু দৃশ্যও যুক্ত করা হয়েছে, যা তেহরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতারই জানান দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের ভিডিও প্রকাশের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে ইরানের আঘাত হানার ক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক করা।
তবে ইরানের এই ধরণের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সংস্থা বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ ধরণের বক্তব্য দেওয়া মূলত ইরানের একটি সুপরিকল্পিত সামরিক প্রোপাগান্ডা বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হতে পারে। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার আগে এই ধরণের কঠোর বার্তা দিয়ে ইরান সম্ভবত আলোচনার টেবিলে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে চাইছে। আপাতত তেহরানের এই ‘ক্ষেপণাস্ত্রে শান দেওয়া’র খবর মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সামরিক আস্ফালন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে।
জেএ/অভি


