'মার্কিন আগ্রাসনের মুখে রণক্ষেত্রে ইরানই জয়ী হয়েছে'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান ‘মাঠে বা রণক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সম্প্রতি জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। গালিবাফের মতে, আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরান এখনও তার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

স্পিকার গালিবাফ তাঁর ভাষণে সামরিক সাফল্যের দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব আজও অটুট রয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ বা চাপের মুখেও এই জলপথের কর্তৃত্ব হারায়নি তেহরান, যাকে তিনি ইরানের এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে গালিবাফ এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, ইরান কোনো দুর্বলতা থেকে নয়, বরং নিজেদের শর্ত ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা যদি আজ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তবে তা কেবল এই কারণে যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।" গালিবাফের দাবি অনুযায়ী, শত্রুপক্ষ শুরু থেকেই ইরানের ওপর একপাক্ষিক ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা ইরান বীরত্বের সাথে রুখে দিয়েছে।

আলোচনার টেবিলকে তিনি সংগ্রামের একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করাও এক ধরণের সংগ্রাম। নেগোশিয়েশন বা সংলাপকে তিনি যুদ্ধের ময়দানেরই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে মেধা ও কূটনীতির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেষ্টা চলছে। গালিবাফের এই কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী সুর মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের গভীরতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গালিবাফের এই ভাষণ মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ জনগণের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে তেহরানের অটল অবস্থানের জানান দেওয়া। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত মানতে বাধ্য করার দাবিটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ইসলামাবাদের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরানের এমন মারমুখী অবস্থান আলোচনার টেবিলে তাদের পাল্লা আরও ভারী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে, এই যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয় নাকি সংঘাতের আগুন আবারও জ্বলে ওঠে।

জেএ/অভি