হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে অত্যাধুনিক মার্কিন ‘সি-ড্রোন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালিতে পেতে রাখা শক্তিশালী সমুদ্র-মাইন শনাক্ত এবং তা দ্রুত অপসারণের জন্য অত্যাধুনিক ‘সি-ড্রোন’ ও রোবটিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং দ্রুততম সময়ে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে আধুনিক মাইন হান্টিং প্রযুক্তিকে বর্তমানে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে পেন্টাগন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মানবচালিত ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানববিহীন যন্ত্রের এক অনন্য সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। অভিযানের প্রথম ধাপে অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবহার করে প্রণালির বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশ দ্রুত স্ক্যান করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য মাইনের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার পর দ্বিতীয় ধাপে সেগুলো নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করতে পাঠানো হচ্ছে বিশেষায়িত সামুদ্রিক রোবট বা সি-ড্রোন। মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে রোবট দিয়ে পানির গভীরে থাকা মাইন ধ্বংস করার এই কৌশলকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর ও বৈপ্লবিক মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা ইউইউভি (UUV) ব্যবহারের ফলে মাইন শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় অভাবনীয় গতি এসেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন ডনেগান জানিয়েছেন, আগে যেখানে একটি ছোট নৌপথ জরিপ করে নিরাপদ ঘোষণা করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বর্তমানে ইউইউভি প্রযুক্তির কল্যাণে তা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি, কারণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকায় সামান্য বিলম্বও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই জলপথে মাইন পাতা হলে তা কেবল সামরিক হুমকি নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা ও তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে দ্রুত মাইন শনাক্ত ও অপসারণে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে কেবল একটি সামরিক অভিযান হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আপাতত মার্কিন বাহিনীর এই প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতা হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেএ/অভি