বাসভাড়া ২২ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ বিআরটিএর
  • মালিকদের দাবি ছিল ৮৪% বাড়ানোর তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ৭% বৃদ্ধির সুপারিশ করে
  • বর্তমানে দূরপাল্লার রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২ টাকা ৪২ পয়সা
  • বিআরটিএর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। আজকালের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরের দিন বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করে পরিবহন মালিক সমিতি। তারা বাসভাড়া ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৭ শতাংশের মতো ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। এ নিয়ে শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র মতে, বাস মালিক সমিতির যুক্তি ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও দুটির পার্থক্য অনেক বেশি। তবে বিআরটিএ বাস্তবতা বিবেচনায় একটি প্রস্তাব সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে গতকাল পাঠিয়েছে। এতে দূরপাল্লার রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা বা ১০ দশমিক ৩৭ শতংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে দূরপাল্লার রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ২২ পয়সা বাড়লে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৩৪ পয়সা। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন সচিব চট্টগ্রাম থাকায় বাসভাড়া নিয়ে গতকাল কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রী, সচিব আজ ঢাকা ফিরলে দু-একদিনের মধ্যে বাসভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।

এর আগে শনিবার বিআরটিএর বৈঠকে বাস মালিক সমিতির ভাড়া নির্ধারণ কোনো সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য এক টাকা বৃদ্ধি বা কমলে ভাড়া এক পয়সা বাড়ানো বা কমানোর রীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে এসেছে। এক্ষেত্রে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যদিও পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর বাস-মিনিবাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়নি। এর মধ্যে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন ওয়েলের খরচ বেড়েছে। সেটাও আমলে নিতে হবে।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন মালিকদের দাবি— এই দুটির সমন্বয় করে একটা প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রী ও সচিব মিলে সেটাই রাখবেন, না কি কিছু কমবেশি করবেন- সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।