নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশে আজ শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৭৯ হাজার কম। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ১৯ লাখ ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। দুই বছর আগে নবম শ্রেণিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করা প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসছে না। সে সময় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও এবার নিয়মিত হিসেবে ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার জন। তবে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। দেশের ৩ হাজার ৮৮৫ কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে অথবা আগে থেকে থাকা ক্যামেরাগুলো সচল রাখতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কক্ষে সিগন্যাল জ্যামারের কভারেজ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল না থাকে। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরাও মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পরীক্ষকরা ঠিকভাবে দেখছেন কি না, এবার তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, খাতা দেখার পদ্ধতি ঠিক আছে কি না— তা এর আগে কখনও খতিয়ে দেখা হয়নি। কোনো শিক্ষক কঠিন মার্ক দিয়েছেন, কোনো শিক্ষক ঠিকমত কাজ করেননি, কোনো শিক্ষক হয়তোবা সময়ের অভাবে বর্গা খাতা দেখিয়েছেন। এই বিষয়গুলোকে এবার আলোচনায় আনা হয়েছে।
এ সময় খাতা দেখার সময় নির্ধারণ নিয়ে কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বোর্ডগুলো খাতা দেখার জন্য পরীক্ষককে নির্বাচন করে এবং তাদের টাইম কম দেওয়া হয়— এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। ৩০০ খাতা দেখতে একজন শিক্ষকের আনুপাতিক হারে কত সময় লাগতে পারে, তা বিবেচনা করে এবার খাতা দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে খাতাগুলো সুন্দরভাবে দেখা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষকরা ঠিকমতো খাতা দেখছেন কিনা তা বোঝার জন্য প্রতিটি বোর্ডের কিছু খাতা র্যানডম স্যাম্পলিং করা হবে। কিন্তু এটা শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি নয়। পরীক্ষককে পরীক্ষা করার জন্য এটা করা হবে। এবার মানবিক নম্বর দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এসএসসিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নজরদারি চলছে। সাইবার ক্রাইম যারা করবে; যারা প্রশ্নপত্র থানা থেকে বা ট্রেজারি থেকে উত্তোলন করবে তাদের ফোন নম্বর রাখা হবে। পরে তারা কোনো ক্রাইম করছে কি না তা নজরে রাখা হবে। এছাড়া মনিটরিং সেল করা হয়েছে। সেখান থেকে মনিটর করা হবে। এখন পর্যন্ত সবকিছুই সুন্দরভাবে অর্গানাইজ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে। ওই গ্রুপে ডিসি, ইউএনও, এসপি এবং স্কুল কলেজের সচিবরা আছেন। সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট যাতে না হয় সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

