বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। উপজেলায় এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে নিন্মমানের কাজে সহযোগিতাসহ কমিশন হারে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (২য় পর্ব) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন রামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজে প্রকল্পের কাজে অনিয়মের কারণে এলজিইডি চাঁদপুর অফিস থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (২য় পর্ব) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন রামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (প্যাকেজ নং-CDP/TULO-2/WD-15/794) কাজের তদারকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। গত ১১ মার্চ তারিখে ঠিকাদারের উপস্থিতিতে কাজের সাইট পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেপটিক ট্যাংক, রেকর্ড রুমের গ্রিল, জানালার গ্রিল, ক্লেডিং ব্রিক্স, বাউন্ডারি ওয়াল ও আউট লেট ড্রেনের কাজ ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন মোতাবেক সঠিকভাবে করা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় চাঁদপুর ২৫ মার্চ এর স্মারক নং- ৪৬.০২.১৩০০,০০০,৯৯,০০১.২৬-৪৫৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও এ ধরনের কার্যকলাপের ফলে এলজিইডির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় চাঁদপুর এর মো. মনোয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের কাজের অবহেলার কারণে কৈফিয়ত তলব করা হয়। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু আপনি ওই কাজের তদারককারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োজিত আছেন; আপনি আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না; আপনার এধরনের কার্যকলাপের ফলে এলজিইডির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে; আপনার উপর্যুক্ত কার্যকলাপ সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অদক্ষতা ও দুর্নীতি পরায়ণতার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার উপর্যুক্ত কার্যকলাপ তথা অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কেন সুপারিশ করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব পত্রপ্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য বলা হলো।
জানা গেছে, এলজিইডির হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে নিম্নমানের কাজে সহযোগিতার অসংখ্য অভিযোগ উঠে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অপরদিকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে বদলি হয়ে হাজীগঞ্জে আসা প্রকৌশলী ইকবাল কবির নলছিটিতে থাকাকালীন প্রকাশ্যে নিজ অফিসে বসে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ও নানা অনিয়মের খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই প্রকৌশলী ইকবাল কবির এখন হাজীগঞ্জেও সরকারি কাজে তার অনিয়ম অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন জমা তহবিল প্রকল্পের মধ্যে উপজেলা বাকিলায় ফুলছোঁয়া মাদ্রাসার গেটের স্থলে লোহার স্টিল দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করে বিল উত্তোলনেও ইকবাল কবির ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম এর অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এমনকি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন জমা তহবিলের ৮৩ নম্বর প্রকল্প যা শুধুমাত্র একজন ঠিকাদারের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি চাঁদপুরের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার উদ্দিন জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, এ বিষয়ে আসলে আমার জানা নেই, জেনে আপনাকে জানাচ্ছি। যদি কাজে ত্রুটি থাকে তাহলে ভাঙতে হবে। এখন কাজ চলমান আছে কিনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে এলজিইডি হাজীগঞ্জ উপজেলা অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কিসের অনিয়ম? নিউজ করেন।

