জনবল ঘাটতির বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সীমাবদ্ধতার কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মো. তাহিরুল ইসলাম
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হিলি হাকিমপুর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চরম জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে সেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিলি হাকিমপুর উপজেলায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও ওষুধের ঘাটতির কারণে এসব কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। হিলি হাকিমপুর উপজেলায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বোয়াদাড় ও আলীহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা স্টাফ উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের ফিরে যেতে দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রয়েছে একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে তার পূর্ণ সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় জনগণ।
জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে অনুমোদিত ৪সাতটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২০ জন। বিশেষ করে মেডিকেল অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রসূতিসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। আলীহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছা. মোমেনা বেগম জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অনেক সময় চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়মিত সরবরাহ করা হয় না। আলীহাট মনসাপুর বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গেলে অনেক সময় কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে।
এ বিষয়ে আলীহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, মো. আল ইমরান, জানান। অনেক সময় সপ্তাহে মাত্র একদিন নামমাত্র ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে মানুষকে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তাহিরুল ইসলাম জানান, জনবল ঘাটতির বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সীমাবদ্ধতার কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

