আইএমএফের কিস্তি ছাড়ের  সিদ্ধান্ত এপ্রিলের পর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের আর্থিক খাতে চলমান সংস্কারকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়াবদ্ধ করতে স্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ চেয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। চলমান ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এপ্রিলের পর মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। সফরের অংশ হিসেবে তারা নতুন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়ে রোডম্যাপ চেয়েছে আইএমএফ। তারা পরিকল্পনা জানতে চান এবং সেই অনুযায়ী রোডম্যাপটা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা ব্যাংক খাতের সংস্কার চাচ্ছে। তারা প্রসেস জানতে চায়। তিনি আরও বলেন, ‘ধরেন আমাদের এনপিএল ৩৬ হয়েছে, ওইটা আমরা কীভাবে নামাব? সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন তো আমরা যেগুলো করেছি সেগুলো নীতি সহায়তা। অর্থাৎ বাস্তবে কোনো চেঞ্জ নেই। এই নীতিগত চেঞ্জের কারণে অনেক লোন রিশিডিউল হয়েছে।’

২০২৩ সালে বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন পায়। এর লক্ষ্য ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কিস্তির আগে নির্ধারিত শর্ত পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা হলেও পরবর্তী কিস্তি পেতে হলে সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আইএমএফের পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর হয়েছে বলে মনে করছে তারা।

আগামী এপ্রিলে আইএমএফের ‘স্প্রিং মিটিং’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘আইএমএফের স্প্রিং মিটিং আছে এপ্রিলে, স্প্রিং মিটিংয়ের পরে হয়তো তাদের ইভ্যালুয়েশন কমিটি যে ঋণ ছাড় করার আগে তো একটা স্ট্যাটাস যাচাই হয়, সেই যাচাইয়ের জন্য তারা আসবে। তারা এসে একটা পর্যালোচনা করার পরে আমাদের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে কথা বলবে বা কোনো গ্যাপ থাকলে সেটা নিয়ে কথা বলবে।’