ইরান যুদ্ধ বাড়লে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা: আইএমএফের সতর্কতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ওয়াশিংটনে প্রকাশিত আইএমএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। এর জেরে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগের তুলনায় কম। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রেও ধীরগতির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। আর যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক— প্রবৃদ্ধি কমে ০ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএমএফ ৩টি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। আর যদি সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে— যা কার্যত বিশ্বমন্দার সমতুল্য।

এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ে গুরিনশাস বলেন, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই ক্ষতি শুরু হয়েছে, এবং ঝুঁকি এখনও অনেক বেশি রয়ে গেছে।

আইএমএফ বলছে, ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দ্রুত সংঘাতের অবসান। পাশাপাশি সরকারগুলোকে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো যায়।

—জা.অর্থনীতি/এনজে