ঠিকাদার জাহিদুরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম (শব্দযন্ত্র) স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর দাসের নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অনিয়ম আর দুর্নীতি নিয়ে দুদক গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে। সেগুলোকে সামনে রেখে অনুসন্ধানী দল তাদের তদন্ত চালিয়ে যাবে। সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে কেনাকাটায় কোন কোন জায়গায় কীভাবে অনিয়ম হয়েছে এবং কত টাকার দুর্নীতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে দুদক। পরে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়ায় যাবে বলে দুদক জানায়।

সূত্রে জানা যায়, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ ভবনসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে কয়েকশ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাত করে বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া, প্রকল্পের কাজ না করে বা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিল উত্তোলন ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশের মাধ্যমে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে তাকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি ও প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছিল। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা তার দেওয়া তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেই সময় জাহিদুর রহিমের প্রতিষ্ঠান সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানায় এবং একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) জমা দেয়। পুরো সিস্টেমটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার একটি উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে। পরবর্তীকালে জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনে সাউন্ড সিস্টেম কেনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের না‌মে বড় ধর‌নের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে‌। অভিযোগ আম‌লে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

সংস্থাটি জানায়, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমে বড় ধরনের অনিয়ম হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কাজেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের যোগসাজশে প্রায় চার কোটি টাকার সংস্কার কাজ পায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তবে পর্দার আড়ালে মূল কাজটি করে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের প্রতিষ্ঠান ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’। জাহিদুর রহিম সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ভায়রা এবং সাবেক হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটনের ঘনিষ্ঠ বলে জানিয়েছে দুদক। এই প্রতিষ্ঠানটিই ২০১৮ সালে সংসদে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করেছিল। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।