আবু তাহের খান ।। অর্থ-সম্পদ দিয়ে সহায়তাকারী বাইরের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে বাংলাদেশ এক সময় ‘দাতা’ হিসেবেই অভিহিত করত। একপর্যায়ে এসে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কারও কারও কাছে মনে হলো, ‘দাতা’ শব্দটি যথেষ্ট কুলীন নয়- দাতার কাছ থেকে কিছু নেওয়ার মধ্যে এক ধরনের ভিক্ষাবৃত্তির স্পর্শ ফুটে ওঠে। তাই নিজেদের ভিক্ষাবৃত্তির কালিমা থেকে মুক্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পরিপত্র জারি করে বলা হলো, ভিক্ষাদানকারীদের এখন থেকে আর ‘দাতা’ বলা যাবে না- বলতে হবে ‘উন্নয়ন সহযোগী’, যেমন ‘সাংসদ’ বলা যাবে না- বলতে হবে ‘সংসদ সদস্য’। তা বৈদেশিক সহায়তা দানকারীদের দাতা বা উন্নয়ন সহযোগী যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বিষয়টি আসলে একই এবং এ শব্দ পরিবর্তন দ্বারা এ ক্ষেত্রে মর্যাদার কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটেছে বা ঘটানো গেছে- এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই; বরং এমনটি মনে করা কার্যত এক ধরনের নির্বোধ মূঢ়তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সে যাই হোক, বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম দাতা দেশ হচ্ছে ফ্রান্স। (শীর্ষে রয়েছে জাপান), যারা একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ও স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরে প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী (১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২) দেশগুলোর অন্যতম। তো সেই ফ্রান্সের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ‘সমান সুযোগ না পেলে ইউরোপীয়-ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবে না।’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি মূলত ফ্রান্সের খ্যাতনামা উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় জাহাজ ক্রয়ের বিষয়টি নিয়েই কথা বলেন। আর এ বিষয়টি তিনি বাংলাদেশের কাছে এমন এক সময়ে উত্থাপন করলেন, যখন বাংলাদেশ সরকার বিনা দরপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের কাছ থেকে উল্লিখিত উড়োজাহাজ ক্রয়ের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী মহল রাষ্ট্রস্বার্থ বিরোধী এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
বিষয়টির অধিকতর স্পষ্টীকরণের জন্য তথ্য হিসেবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) স্বাক্ষর করেছে, উল্লিখিত ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের উদ্যোগ তারই অংশ। এবং শুধু অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজ ক্রয় নয়- এমনি আরও অনেকগুলো হীনতাপূর্ণ বিধান এ চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তদুপরি সে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখন আর শুধু বাংলাদেশের ক্ষতির মধ্যেই আটকে নেই- একইসঙ্গে এর সঙ্গে অন্যদেশকেও যুক্ত করে ফেলা হয়েছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ ফরাসি রাষ্ট্রদূতের ১৬ মার্চের উপরোক্ত সতর্কতামূলক অভিযোগ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি বস্তুত বাংলাদেশ কর্তৃক বোয়িংয়ের কাছ থেকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাবিহীন প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন যা মোটেও অমূলক নয়। আর এটি তো খুবই যথার্থ বক্তব্য যে, বিদেশি কোম্পানি তথা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এরূপ পক্ষপাতপূর্ণ তথা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হলে ভবিষ্যতে শুধু ফ্রান্স বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নয়- অন্যদেশও এখানে বিনিয়োগ করা থেকে পিছিয়ে যাবে।
এ সূত্রে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে যে, ক্রয়টি যে শুধু উন্মুক্ত দরপত্রবিহীন অস্বচ্ছ প্রক্রিয়াতেই ঘটছে তাই নয়। ওই উড়োজাহাজের কারিগরি মান ও নিরাপত্তা সামর্থ্যের বিষয়টি নিয়েও ইদানীং ব্যাপকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবং এ প্রশ্নের পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ছোট-বড় এমন বহুসংখ্যক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনাগুলোর অন্যতম। তন্মধ্যে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে গত দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে। দুর্ঘটনা দুটির একটি ঘটেছে ২০২৫ সালের জুনে ভারতের আহমেদাবাদে (মৃতের সংখ্যা ২৪২) ও অন্যটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ানে (মৃতের সংখ্যা ১৭৯), যেগুলো মানুষের স্মৃতিতে এখনও বিষাদময় হয়ে আছে। এরূপ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কর্তৃক বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার মানেই হচ্ছে যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রচণ্ডভাবে উপেক্ষা করা, যেমনিভাবে বিশ্বনিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রস্বার্থবিরোধী ওই চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে সরকার এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি করছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধুপ্রতিম ফ্রান্সের কাছ থেকে সতর্কবার্তা শুনতে হয় যে, ‘সমান সুযোগ না পেলে ইউরোপীয়-ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবে না’? বলা প্রয়োজন যে, আন্তঃরাষ্ট্রিক কূটনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো বিষয়ে কোনো পক্ষ চরম বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট না হলে সাধারণত এ ধরনের কঠিন ও রূঢ় ভাষা ব্যবহার করেন না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিত আশীর্বাদ পাওয়ার আশায় তাদের অর্থাৎ একটি মাত্র দেশকে খুশি রাখতে গিয়ে উল্লিখিত অসম ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্য বহুসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে ফেলছে না তো? বাংলাদেশ কি জেনশুনে সচেতনভাবেই এ ঝুঁকি নিচ্ছে, নাকি রাষ্ট্রস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হলেও মার্কিন সমর্থনকে নিজেদের টিকে থাকার অন্যতম উপায় হিসেবে গণ্য করছে? প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি এ ধরনের বৈষম্যপূর্ণ আচরণ অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ বস্তুতই অনেকখানি কঠিন হয়ে পড়বে এবং শূন্য থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে শত লাফ দিয়েও বিদেশিদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
এ প্রসঙ্গে আবশ্যিকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অনুরূপ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি মালয়েশিয়া গত ১৮ মার্চ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দিয়েছে যা স্বাক্ষরিত হয়েছিল গত বছরের ২৫ অক্টোবর। মালয়েশিয়ার এরূপ সাহসিকতাপূর্ণ দৃঢ় সিদ্ধান্ত দেখে বাংলাদেশের নতুন সরকার এ বিষয়ে কিছুটা হলেও সাহস ও অনুপ্রেরণা পেতে পারে বলে মনে করি। কিন্তু কথা হচ্ছে, মার্কিন মদদপুষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই একই ব্যক্তি যখন নতুন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী না হয়েও ওই বাণিজ্য চুক্তির দেখাশোনা করছেন, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সন্দেহ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকার হয়তো এ চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা করবে না। অথচ গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করায় এবং মালয়েশিয়া সংশ্লিষ্ট চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসায় বাংলাদেশের পক্ষেও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এখন একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার যদি সে সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা না করে তাহলে ফ্রান্সের পর ক্রমে অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বৈষম্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করবে তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের ফলাফল এরই মধ্যে উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন একেবারেই সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। ‘ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সমর্থন জানাতে আমার বিবেক সাড়া দিচ্ছে না’ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট। বিভিন্ন দেশের ওপর আকস্মিক শুল্ক আরোপকে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষণার পর ট্রাম্পের ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধের ঘোষণাকেও কলম্বিয়ার জেলা আদালত গত ১৭ মার্চ অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা দপ্তর ২০ হাজার কোটি ডলারের যে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে, কংগ্রেস তা অনুমোদন করবে কি না এবং করলে তা দেশটির অর্থনীতিকে বিপদে ফেলবে কি না, সে ব্যাপারেও ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘকালীন মিত্ররা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অংশীদার হতে রাজি হয়নি, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানও। যুক্তরাজ্য ও স্পেন এ যুদ্ধে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের ভাষ্যমতে এটি ‘আমাদের যুদ্ধ নয়’। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মার্কিন বিরোধিতা অত্যন্ত বোধগম্য কারণেই এখন আরও অনেক বেশি প্রকাশ্য ও জোরালো।
মোট কথা, সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন বস্তুতই সার্বিক ভগ্নতার মুখে এবং সেটি শুধু ইরান যুদ্ধে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ার কারণে নয়- সার্বিক রাষ্ট্রনীতির কারণেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট বা সরকার বাংলাদেশের কোনো সরকারের রক্ষাকারী হওয়ার মতো ভূমিকায় কতদিন থাকতে পারবে- সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, যে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে পথ দেখিয়েছে। কিন্তু তা না করে বাংলাদেশ যদি উল্লিখিত এআরটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এককভাবে বাণিজ্য সুবিধা দিতে থাকে তাহলে এমনটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ভিন্ন অন্যদেশের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে ক্রমাগতভাবেই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে, যে ইঙ্গিত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক প্রদান করেছেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত এই মুহূর্তে মূলত বোয়িং থেকে বিমান ক্রয়ের মধ্যে তার অসন্তোষ সীমাবদ্ধ রাখলেও এ ধরনের বৈষম্য বাংলাদেশ আসলে গত বছর দেড়েক ধরেই করে যাচ্ছে, যার শুরুটা হয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানি স্টারলিংককে একতরফাভাবে ও নিয়মবহির্ভূত উপায়ে নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু ড. ইউনূস এখন আর দায়িত্বে নেই। কিন্তু তার পরও কি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক ধারা চলতেই থাকবে?
বিশ্ব অর্থনীতির তুলনামূলক বিবেচনায় অতিনিম্ন পর্যায়ের উৎপাদনব্যবস্থা এবং তার চেয়েও অধিক দুর্বল শাসনব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ এখন বাণিজ্য ও অর্থনীতির যে স্তরে অবস্থান করছে, সেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আর সে বৈদেশিক বিনিয়োগকে গতিশীল করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দেশ ও উদ্যোক্তার পরিচয় নির্বিশেষে সবার প্রতি সমআচরণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আর সেটি করতে হলে শুধু বোয়িংয়ের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজ ক্রয়-প্রক্রিয়া বাতিল করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যবস্থা করলেই চলবে না, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সব ক্ষেত্রে সমতাপূর্ণ আচরণ ও নীতিও অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই যদি এ ক্ষেত্রে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটে তাহলে নিকট ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের কাছে তা অবশ্যই ভুল বার্তা পৌঁছাবে। এমতাবস্থায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলের দেড় বছরে দেশে যে বিপর্যয়কর স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল তা থেকে দেশকে যত দ্রুত সম্ভব বের করে আনার লক্ষ্যে সব বিদেশি বিনিয়োগকারীর প্রতি সমআচরণ প্রদর্শনের ফরাসি রাষ্ট্রদূতের দাবিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেবে বলেই আশা করি।
অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ও সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, অনুবাদ, প্রতিক্রিয়া ও চিঠিপত্রে প্রকাশিত মতামত, উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব। এগুলোর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সর্বদা মিল না-ও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখার বিষয়ে জাতীয় অর্থনীতি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ]


