নিজস্ব প্রতিবেদক , চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এনসিটি এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, টার্মিনাল পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং নিয়ে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে নতুন কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, “যেখানে সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেখানে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আসে। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি।”
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। “শ্রমিকদের কিছু ন্যায্য দাবি আছে, সেটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো দেশগুলো বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশকেও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে কিছু ক্ষেত্রে উদার হতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাব বাস্তবায়নে উন্মুক্ত দরপত্র, জিটুজি কিংবা পিপিপি—সব ধরনের প্রক্রিয়াই বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাব যদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা না করে, তাহলে বিকল্প পথেও যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে চাই। যে সিদ্ধান্তই হবে, তা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই হবে এবং প্রয়োজনে তার জবাবদিহিও নিশ্চিত করা হবে।”
বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লালদিয়া, বে টার্মিনাল ও পতেঙ্গা টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ খালি কনটেইনার বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এ বন্দরের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনো অনিয়ম তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। “অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত চলবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”—বলেন তিনি।
জেএ/অভি


