তামিলনাড়ুতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: প্রাণহানি বেড়ে ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) জেলার কাট্টানাপট্টি এলাকার একটি কারখানায় ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শ্রমিকের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই ঘটনায় আরও বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ সকালে যখন কারখানার ভেতরে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক দৈনিক কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ধারণা করছে, আতশবাজির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণের সময় কোনো ধরণের ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। এই বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর শব্দ কারখানার এলাকা ছাড়িয়ে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। শক্তিশালী এই ধাক্কায় কারখানার অন্তত চারটি বড় কক্ষ পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পার্শ্ববর্তী শিবকাশী, সাত্তুর ও বিরুধুনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় নিরলস চেষ্টার পর তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল। ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে পড়া ছাদ ও দেয়াল সরিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি তামিলনাড়ুর এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও এই প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য কে কে এস এস আর রামচন্দ্রন ও থাঙ্গাম থেন্নারাসুকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সকল প্রকার জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে কারখানাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ সরকারি অনুমোদন এবং জীবন রক্ষাকারী নিরাপত্তাবিধি বা ‘সেফটি প্রটোকল’ সঠিক উপায়ে মেনে চলা হচ্ছিল কি না। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দলও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। উৎসবের আবহে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো তামিলনাড়ু জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জেএ/অভি