আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পার্লামেন্টে ‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ নামের একটি আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো নাগরিক দেশটিতে আর কখনোই বৈধভাবে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। বর্তমানে বিলটি হাউস অব লর্ডসে অনুমোদন পাওয়ার পর ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে, যা সম্পন্ন হলেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
আইনটি কার্যকর করার জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতি বছর সিগারেট কেনার বৈধ বয়স এক বছর করে বাড়তে থাকবে। এর ফলে ২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালেও আইনিভাবে তামাকপণ্য কেনার সুযোগ পাবেন না। নতুন এই বিধান যুক্তরাজ্যের চারটি অংশ—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে কার্যকর হবে। এ ধরনের ‘প্রজন্মভিত্তিক ধূমপান নিষেধাজ্ঞা’ বর্তমানে মালদ্বীপ ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে কার্যকর নেই।
কেবল তামাক নয়, ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে নতুন এই আইনে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বা ভেপ পণ্য বিক্রি করলে খুচরা বিক্রেতাদের বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়া শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল এবং হাসপাতালের বাইরে ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো গাড়িতে ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ থাকলে সেখানেও ভেপিং করা যাবে না। পাশাপাশি তামাক ও ভেপ পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার সরকার এই আইনটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মাধ্যমে একটি ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং তামাকজনিত রোগে অকাল মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে। তবে বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কও হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ দলের কেউ কেউ খুচরা বিক্রেতাদের ওপর জরিমানার বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের মতে, কঠোর আইনের চেয়ে জনসচেতনতা এবং শিক্ষা ধূমপান কমাতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজকীয় সম্মতি বা ‘রয়্যাল অ্যাসেন্ট’ পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র, কারণ এটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা একটি বিল। তবে নতুন এই আইনের আওতায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘর বা বাসভবনে ধূমপান বা ভেপিংয়ের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই কঠোর তামাকবিরোধী অবস্থান অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর জন্যও একটি অনন্য উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তামাকমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেএ/অভি

