নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় আসার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সেপ্টেম্বরে নেপালের পূর্ববর্তী সরকার পতনের আন্দোলনে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই নেতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সুদান গুরুং তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, পদ-পদবির চেয়ে তার কাছে নৈতিকতা অনেক বড় এবং জনআস্থার চেয়ে শক্তিশালী কোনো শক্তি নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, জনজীবন স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং নেতৃত্বকে সর্বদা জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এই আদর্শিক অবস্থান থেকেই তিনি ব্যক্তিগত নৈতিকতা বজায় রাখতে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, সুদান গুরুং নেপালের রাজনীতিতে একজন উদীয়মান ও প্রভাবশালী তরুণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বড় ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত নেপাল গড়ার নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় তার বিরুদ্ধেই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

কাঠমান্ডু থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গুরুংয়ের এই আকস্মিক পদত্যাগ নেপালের বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতেই’ তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এমন সরে দাঁড়ানোর ঘটনা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের এই নেতার বিদায় নেপালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আপাতত তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপ। গুরুংয়ের পদত্যাগের ফলে শূন্য হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে এখন নেপালের ক্ষমতার কেন্দ্রে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে নৈতিকতার দোহাই দিয়ে তার এই বিদায় অনেকের কাছে প্রশংসা পেলেও সমালোচকরা বিষয়টিকে রাজনীতির নতুন সংকট হিসেবে দেখছেন।

জেএ/অভি